ঢাকা, আজ বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আসছে ‘প্যাকেজ কর্মসূচি

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-৩০ ০৬:৫০:১১ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৪ ০৯:১৬:৪০

প্যাকেজ কর্মসূচি’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে। শনিবার রাতে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান। এরআগে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। এতে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে বিএনপি বিভাগীয় পর্য়ায়ে কর্মসূচি দেবে বলে সর্বশেষ ২২ জুন স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়।বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের সভায় অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করার জন্যে এবং অন্যান্য আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।কবে নাগাদ আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আগামী চার সাপ্তাহের মধ্যেই এই কর্মসূচিগুলো আসবে।বয়সসীমা তুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে সৃষ্ট সঙ্কট সমাধানে কি হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এগুলোর বিষয়ে যাদের দায়িত্ব রয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। ছাত্রদলের ব্যাপারে যাদের দায়িত্ব আছে, তারাই পরবর্তিতে আপনাদেরকে জানাবেন।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, উনি এই ধরনের কথা প্রায়ই বলেন, এই ধরনের কথা আগেও বলেছেন।আমরা মনে করি যে, তাদের যে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এসব তারই বহিঃপ্রকাশ। আমি মনে করি, এই ধরনের চিন্তা করাও রাজনৈতিক কোনো চিন্তা বলে মনে হয় না।
বিএনপি মহাসচিব বরগুনা রিফাত হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সভায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিককালে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে বলে সভা মনে করে।

যেহেতু এই সরকার জনগনের দ্বারা নির্বাচিত নয়, ফলে কোনো জবাবদিহিতা নেই। সেজন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে বিগত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সন্ত্রাস ও অস্ত্রের মুখে জনগনের অধিকার হরণ করেছে, সেহেতু রাষ্ট্রের প্রতি জনগনের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন, ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে এবং একটা চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সমাজিক সংকট বিরাজ করছে দেশে। সভা মনে করে, এই সংকট নিরসনের একমাত্র উপায় হচ্ছে, যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের লড়াই করেছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক কারণে যে সমস্ত নেতা-কর্মীদের বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি এবং অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের সংসদ গঠন করা।