ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১

নতুন ‘প্লাটফর্মে’ মুক্তি চাওয়া হবে খালেদা জিয়ার

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-২৮ ০৩:৫৫:২৬ || আপডেট: ২০১৯-০৭-০৪ ০৯:১৬:৪৩

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সংবাদ সম্মেলন আজ। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেলা সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

২০ দলীয় জোটের বাইরে নতুন করে একটা ‘প্লাটফর্ম’ গড়ার ঘোষণা দিতে পারেন অলি। সেখান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানানো হতে পারে। এ সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। অনুষ্ঠানে জোটের শরিক ছাড়াও সুশীল সমাজের অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ সংবাদ সম্মেলন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপিও।

এলডিপির একটি সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন অলি। বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে দ্রুত আরেকটি নির্বাচনের দাবিও জানানো হতে পারে। জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সমালোচনায় মুখর হতে পারেন অলি। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এমন অভিযোগ তুলতে পারেন তিনি। বিএনপির কোনো কোনো নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না এমন অভিযোগও করা হতে পারে। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা বিষয়ে তিনি জোটের নেতৃত্ব দেয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। প্রস্তাবিত বাজেটসহ সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করবেন তিনি।

অলির দল ছাড়লেন তিন প্রেসিডিয়াম সদস্য : কর্নেল (অব.) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন তিন প্রেসিডিয়াম সদস্য। তারা হলেন- আবদুল করিম আব্বাসী, মো. আবদুল্লাহ ও মো. আবদুল গণি। এ তিনজন একাধিকবার বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পদত্যাগের কথা স্বীকার করে আবদুল করিম আব্বাসী বলেন, তিনজন এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেছি। মঙ্গলবার এলডিপির সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়ে সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।

কি কারণে এলডিপি ছাড়লেন জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ করিম আব্বাসী বলেন, একটি দল ছাড়তে তো অনেক কারণ থাকে। দল পরিচালনায় কর্নেল (অব.) অলির অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী ব্যবস্থাও দল ছাড়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া, এলডিপিতে আমরা ছিলাম সিনিয়র নেতা। আমরা বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি নিজে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। ছিলাম সংসদের হুইপ। অথচ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাদের কাউকে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তারা কয়েকজন মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেছেন। এসবও দল ছাড়ার কারণ। আবদুল গণি বলেন, তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম।কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে এলডিপি আমাদের সঙ্গে নোংরা খেলা খেলেছে। যা আমরা সহ্য করতে পারিনি। কোনো দলে যোগদান করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু এখনই কোনো দলে যাচ্ছি না। তবে এ মতবাদে বিশ্বাসীদের নিয়ে শিগগিরই একটা ফোরাম তৈরি করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমরা কাজ করব। পদত্যাগকারী তিনজনের ঘনিষ্ঠ এলডিপির কেন্দ্রীয় এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে অলি নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগদান করেছিলেন তার কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি। বিএনপি থেকে বের হয়ে নতুন দল গঠন করলেও ওই দলের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের রাজনীতিতে তাদের থাকতে হয়েছে। এলডিপির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতেন, দেশের রাজনীতিতে নতুন দিক তৈরির জন্য বিএনপির মতো বড় দল ত্যাগ করেছিলাম।

কিন্তু এখানেও কোনো সফলতা আসেনি। দলকে শক্তিশালী করতে সারা দেশে সাংগঠনিক কমিটি গঠন, নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা, সভা-সমাবেশের মতো কোনো কর্মসূচি নেই। শুধু ইফতার পার্টি আর সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দলের তিনজন হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের সিনিয়র তিনজন নেতা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে তারা মনোক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন।

আর এ কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে তিনি মনে করছেন। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, এলডিপির সিনিয়র এ তিন নেতার দল ছাড়ার আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অলি আহমদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পদত্যাগকারী তিনজনসহ আরও কয়েকজন নেতা মেনে নিতে পারেননি। যা নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

এ সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য কি তা নিয়েও দলের মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। এলডিপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপির বিকল্প হিসেবে আরেকটি ‘প্লাটফর্ম’ গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অথচ দলীয় ফোরামের বৈঠকে কোনো কিছুই স্পষ্ট করে বলেননি সভাপতি। তাই সব বিষয়ে আমরাও অন্ধকারে রয়েছি।