ঢাকা, আজ রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১

মৃত্যুর আগে অনেক ‘গোপন’ কথা বলতে চেয়েছিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট মুরসি

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৮ ০৮:২৯:৪৪ || আপডেট: ২০১৯-০৬-১৮ ০৮:২৯:৪৪

মৃত্যুর আগে অনেক ‘গোপন কথা’ বলে যেতে চেয়েছিলেন মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও পরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটে প্রেস মিসরের বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয় এ তথ্য জানায়।

সোমবার চলমান মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আনা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল জানিয়েছে। মুরসির ছেলে ফেসবুকে পোস্ট দিয় তার বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

আদালতের ওই অফিসার বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে মোহাম্মদ মুরসি আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলতে চান। বিচারক তাকে অনুমতি দেন। তখন মুরসি তার ব্ক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, তার কাছে অনেক ‘গোপন কথা’ আছে। যদি তিনি এসব বলেন, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা এপিকে আরো জানান, তবে মুরসি এও বলেন, তিনি এসব এতদিন বলেননি কারণ এতে জাতীয়ভাবে মিসরের নিরাপত্তার ক্ষতি হতো।

আল জাজিরা জানায়, আদালতে বিচারকের প্রশ্নের মুখে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

ছেলে আহমদ নাজাল ফেসবুক পোস্টে মুরসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি লেখেন, ‘আমার পিতা আল্লাহর কাছে চলে গিয়েছেন।’

২০১১ সালে আরব বসন্তের জেরে এক গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক পদচ্যুত হন। পরের বছরেই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন মুরসি। ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। মুরসির হাতে সেনাপ্রধান হওয়া আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতায় বসেন। সেইসঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও কাতারে তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি করেন।

২০১৬ সালের জুনে তথ্য পাচারের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচারের অভিযোগে মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।