ঢাকা, আজ সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

চাকরি হারালেন ব্রণের চিকিৎসায় ‘চুমু দেয়া’ সেই ডাক্তার

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৭ ১৫:২৫:০৬ || আপডেট: ২০১৯-০৬-১৭ ১৫:২৫:০৬

চাকরি হারালেন ব্রণের চিকিৎসায় তরুণীর গালে ‘চুমু খাওয়া’ সেই রাজধানীর ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালের সেই চিকিৎসক। নিজ চেম্বারে কোমরে ইনজেকশন দেয়ার নামে জামার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দেয়া, শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে অশ্লীলভাবে হাত বুলানোর দায়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ জুন) একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওই তরুণীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে পপুলার হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার কসমেটিক সার্জন শওকত হায়দারের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় পপুলার হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী তরুণী।সোমবার (১৭ জুন) রাত ৮টার দিকে পুপলার হাসপাতালের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান অচিন্ত্য কুমার নাগ সময় সংবাদকে বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওই চিকিৎসককে আর চেম্বারে বসতে দেয়া হবে না। শুধু ধানমন্ডি শাখা নয়, পুপলার হাসপাতালের কোনো শাখাতেই আর চেম্বার করার অনুমতি পাবেন না অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক।’

অচিন্ত্য কুমার নাগ আরো বলেন, ‘পপুলার থেকে ওই চিকিৎসকে চেম্বার ‘ক্লোজ’ করে দেয়া হয়েছে। উনি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার দু’দিন পপুলারে বসতেন।যেসব চিকিৎসক ফুলটাইম পপুলারে বসেন, তিনি তাদের মতো না।’ পুপলার হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসক না হওয়ায়, ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে আর তেমন কিছু তাদের করণীয় নেই বলে উল্লেখ করেন হাসপাতালের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের প্রধান।
এর আগে, ঘটনার বিবরণে ওই তরুণী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ত্বকে ব্রণের সমস্যা নিয়ে পরিচিত একজনের রেফারেন্সে প্রথমবার পপুলার হাসপাতালের ওই ডাক্তারের কাছে যান তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজনে আরো কয়েকবার ওই ডাক্তারের কাছে যান তিনি।

সর্বশেষ গত শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে ওই তরুণী ডা. শওকতকে জানান, তার ত্বকের সমস্যা আবার বেড়েছে, রাতে তিনি চেম্বারে বসবেন কিনা? এসময় ওই ডাক্তার চেম্বারেই আছেন জানিয়ে মেয়েটিকে তখনই যেতে বলেন।

পরে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ওই তরুণী জানতে চান তার সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আছে কিনা। এসময় ডা. শওকত বলেন, যদি সে চায় তবে একটা ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে। তবে ইনজেকশনটি কোমরে দিতে হবে। মেয়েটির ইতস্ততভাব দেখে ওই ডাক্তার তাকে বলেন, কাপড়ের উপর দিয়েই ইনজেকশন দেয়া যাবে। মেয়েটি ইনজেকশন দিতে রাজি হয়ে পেসেন্ট টেবিলে শুলে ওই ডাক্তার মেয়েটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে থাকেন। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, কোথায় ইনজেকশন দিলে ভালো হয় তা চেক করে দেখছিলেন তিনি।

পরে ওই তরুণী সেই ইনজেকশন হাতেই দিতে বলেন। ওই তরুণী অভিযোগ করেন, ডাক্তার ইনজেকশন দেবার পর তুলা দিয়ে চেপে না ধরে না তার জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে দেন। এ অবস্থায় মেয়েটি তাড়াতাড়ি সরে এসে ডাক্তারের ফি দিয়ে চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এসময় সেই ডাক্তার আরেকবার তার গালের ইনফেকশনটি দেখতে চান। গাল দেখার ছলে ডা. শওকত ওই তরুণীকে চুম্বন করেন।

এরপর বাসায় ফিরে ওই তরুণী ডাক্তারের কাছে ফোন করে তার কৃতকর্মের কারণ জানতে চাইলে ডা. শওকত বলেন, ‘ওটা কিছু না, ইনফেকশন আছে কিনা দেখছিলাম।’ পরে তরুণী বলেন, ‘এমন তো আমি কখনো দেখিনি, ইনফেকশন আছে কিনা সেটা কোনো ডাক্তার কি ঠোঁট দিয়ে চেক করে?’ এসময় ডাক্তার শওকত হায়দার ওই তরুণীকে বলেন, তিনি দুঃখিত।