ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয়রা, অসহায় স্থানীয় জেলেরা

প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৪ ১২:৩১:৫৬ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৪ ২২:৩৬:১৮

প্রজনন মৌসুমে আগামী ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ শিকারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে জাল গুটিয়ে বসে আছেন দেশের জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার এই সময়টাতে ইলিশ শিকারী জেলেরা বেকার সময় কাটালেও বসে নেই ভারতীয় জেলেরা।বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ পানিসীমায় ঢুকে অবাধে ইলিশ মাছসহ অন্যান্য মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জেলেরা। বঙ্গোপসাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কলাপাড়া উপকুল পর্যন্ত ভারতীয় ট্রলিং ট্রলার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

এদিকে একইভাবে বরগুনায়ও পাশের দেশের জেলেরা এই ইলিশ ধরছে বলে অভিযোগ করেছে উপকূলের জেলেরা। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই শত শত ভারতীয় ট্রলার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে ইলিশ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। একই অভিযোগ ট্রলার মালিক সমিতিরও।

মৎস্য বিভাগের দাবি, প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ যাতে ইলিশ শিকার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক তারা। তবে, সমুদ্রসীমায় ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশের কথা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগরের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকায় সাগরে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তিনটি ট্রলারসহ ৩৮ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করে মোংলা থানায় সোপর্দ করে। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন জানান, ভারতীয় জেলেদের উৎপাতে দেশি জেলেরা অসহায়। তিনি আরো বলেন, অতীতে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের পানিসীমার কিছুটা ভেতরে ঢুকে মাছ শিকার করতো। বর্তমানে তারা সাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কলাপাড়া উপকূল পর্যন্ত ট্রলিং ট্রলার নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ভারতীয় জেলেরা দ্রুতগতির ট্রলারে বসে বাইনোকুলার দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে চলাচল করে থাকে বলে জেলেদের বরাত দিয়ে তিনি জানান।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ করেন, বর্তমানে সাগরে ভারতীয় জেলেদের উৎপাত বহুগুণ বেড়েছে। প্রায় সারাবছরই ভারতীয় জেলেরা সাগরে টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজকে ফাঁকি দিয়ে দেশীয় পানিসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। ভারতীয় এসব জেলেরা অনেক সময় দেশীয় জেলেদের মারধর করে মাছ লুট করেও নিয়ে যায়। সাগরে আরো বেশি করে নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।

মুসলমানরা ভয় করে আল্লাহকে, কোনো সন্ত্রাসীকে নয়: রুবেল

রুবেলের সেই পোস্ট আজ ও ভাইরালঃপাঠকদের জন্য হুবাহু তুলে দরা হল ঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদ আল নূরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ৪১ জন নি,হত হয়েছেন। জখম হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। ওই মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন তারা। সেখানে ৫-৭ মিনিট আগে পৌঁছলেই কল্পনাতীত কিছু ঘটতে পারত। ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন তামিম- মিরাজরা।

নিউজিল্যান্ড সফরে ক্রাইস্টচার্চে গেলে আল নূরেই সাধারণত নামাজ পড়েন টাইগাররা। আগে সেখানে নামাজ পড়েছেন রুবেল হোসেনও। ওয়ানডে সিরিজে দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি। টেস্ট স্কোয়াডে না থাকায় দেশে ফিরে আসেন। না্কী‌য় হামলায় সতীর্থরা বেঁচে যাওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন রিভার্সসুইং তারকা।

সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে রুবেল লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সব কিছুর মালিক। এ মসজিদে আমিও নামাজ পড়ে এসেছি। এটা একটা পরিকল্পিত হাম,লা। মহান আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শু্রি‌য়া আমাদের ক্রিকেটারদের রক্ষা করেছেন এত বড় একটা দুর্ঘটনা থেকে। যে সমস্ত মুসলমান ভাইয়েরা মা,রা গেছেন আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।

পরে আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, মনে রাখবেন সারাবিশ্বের মুসলমান ্য়‌ করে একজনকে তিনি হলেন মহান আল্লাহ। তার ভয়ে ভী,ত মুসলিম উম্মাহ। কোনো সন্ত্রাসীর কাছে নয়।

মহাকাশ জয়ী গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী !

মহাকাশ নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। সে কারণেই মহাকাশ নিয়ে মানুষের গবেষণার শেষ নেই। মৃ’ত্যুকে নিশ্চিত জেনেও মানুষ এ মহাকাশ ভ্রমণের দুঃসাহসিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে। মহাকাশ জয়ের এ অভিযানে অন্যদের পাশাপাশি অবদান রেখেছে গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণে গিয়ে ৩ অক্টোবর ফিরে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুসলিম নভোচারী হাজ্জা আল-মানসুরি। তারা মুসলিম বিশ্বের জন্য গর্ব।

গর্বিত ১১ জন মুসলিম মহাকাশ নভোচারির সদস্যরা হলেন- >> সুলতান বিন সালমান আল-সৌদি (সৌদি আরব) সুলতান বিন সালমান প্রথম মুসলিম নভোচারী। যিনি মহাকাশ ভ্রমণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি প্রথম মুসলিম ও আরব নাগরিক হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৭ জুন ‘এসটিএস-৫১ জি’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৬ সালের ২৭ জুন জন্ম নেয়া সুলতান বিন সালমান ২৯ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

>> মোহাম্মদ ফরিস (সিরিয়া) মোহাম্মাদ ফারিস দ্বিতীয় মুসলিম মহাকাশ নভোচারী। যিনি ১৯৮৭ সালের ২২ জুলাই ‘মীর ইপি-১’ মহাকাশযানে প্রথম সিরীয় নাগরিক ও দ্বিতীয় আরব হিসেবে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ২৬ মে জন্ম নেয়া ৩৬ বছর বয়সী ফারিস নভোচারীর খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি অর্ডার অব লেলিন ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

মুসা মানারোভ (আজারবাইজান(আজারবাইজান) তৃতীয় মহাকাশ নভোচারী গর্বিত মুসলিম সদস্য হলেন মুসা মানারোভ। যিনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ২ বার মহাকাশ ভ্রমণে অবস্থান করেন। ৫৪১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন তিনি। তিনি ১৯৮৭ সালে ‘মীর নিউ-৩’ মহাকাশযানে প্রথম বার এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে ‘সুয়েজ টিএম-১১’তে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালের ২২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমবার মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর। তিনিও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন ও অর্ডার অব লেলিনসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

>> আবদুল আহাদ মোহামান্দ (আফগানিস্তান) আবদুল আহাদ মোহামান্দ ৪র্থ মুসলিম এবং প্রথম আফগান হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট ‘মীর ইপি-৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ২৯ বছর। তিনি মহাকাশে ৯ দিন অতিবাহিত করেন। তিনিই প্রথম মহাকাশ নভোচারী যিনি মহাকাশে পবিত্র কুরআনুল কারিম নিয়ে ভ্রমণ করেন।

>> তোক্তার আউবাকিরভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের প্রথম ও পঞ্চম মুসলিম হিসেবে তোক্তার আউবাকিরভ মহাকাশ নভোচারী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি ১৯৯১ সালের ২ অক্টোবর ‘সুয়েজ এম-১৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৪৬ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া তোক্তার ৪৫ বছর বয়সে এ ভ্রমণ করেন। তাকে হিরো অব দ্য কাজাখাস্তান ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ আরও বেশ কিছু সংস্থা কর্তৃক মহাকাশবিষয়ক সম্মাননায় ভূষিত হয়।

>> তালগাত মুসাবায়েভ (কাজাখাস্তান) তালগাত মুসাবায়েভ। কাজাখাস্তানের দ্বিতীয় নভোচারী ও ৬ষ্ঠ মুসলিম হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে অবস্থান করেন। ৩ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তিনি ৩৪১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট অবস্থান করেন। মুসাবায়েভ প্রথমবার ১৯৯৪ সালের ৪ নভেম্বর, দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালের ২৫ অগস্ট এবং তৃতীয় বার ২০০১ সালের ৬ মে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ৭ জানুয়ারি জন্ম নেয়া এ নভোচারী ৪৩ বছর বয়সে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি কাজাখাস্তান জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

>> সালিজান শারিপভ (রাশিয়া) সপ্তম মুসলিম নভোচারি হিসেবে রাশিয়ার সালিজান শারিপভ মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ জানুয়ারি ‘এসটিএস-৮৯’মহাকাশযানে প্রথমবার এ ভ্রমণ করেন। তিনি ২ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন। দ্বিতীয়বার ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবরে তিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট জন্ম নেয়া এ নভোচারী সর্বপ্রথম ৩৪ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

তিনি হিরো অব দ্য রাশিয়ান ফাউন্ডেশন পুরস্কার লাভ করেন। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের উজবেক জাতীয়তাবাদী প্রথম মহাকাশ নভোচারীর তালিকায়ও তিনি নাম লেখান। নুশেহ আনসারি অষ্টম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম মুসলিম নারী ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক আনুশেহ আনসারি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি প্রথম ইরানি-আমেরিকান মুসলিম হিসেবে ‘সুয়েজ টিএমএ-৯’ মহাকাশযানে ২০০৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর এ ভ্রমণ করেন।

তিনি ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণকারী প্রথম নারী ও চতুর্থ ব্যক্তি। ১৯৬৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইরানে জন্ম নেয়া আনুশেহ ৪০ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ও ইয়াং এন্টারপ্রেনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডসসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

>> শেখ মুসজাফার শুকুর (মালয়েশিয়া) মহাকাশ নভোচারী মালয়েশিয়ান নাগরিক শেখ মুসজাফর। নবম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর ‘সুয়েজ টিএমএ-১১’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী মুসজাফার শুকুর মহাকাশে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করেন এবং নামাজের সে দৃশ্য ভিডিও প্রচার করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া এ মালয়েশিয়ান মহাকাশে ১০ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৫ বছর।

>> আইদিন আইমবেটোভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের তৃতীয় নাগরিক হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন দেশটির এয়ার ফোর্সের মেজর জেনারেল আইদিন আইমবেটোভ। তিনিই প্রথম মহাকাশে কাজাখাস্তানের পতাকা বহন করেন। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ‘সুয়েজ টিএমএ-১৮এম’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী আইদিন মহাকাশে ৯ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া এ নভোচারীর মহাকাশ ভ্রমণের সময় বয়স ছিল ৩৭ বছর।

>> হাজ্জা আল মানসুরি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ নভোচারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে নাগরিক হাজ্জা আল-মানসুরি। তিনি ‘সুয়েজ এমএস-১৫’ নামক মিশনে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশ ভ্রমণে তিনি পবিত্র কুরআন সঙ্গে নিয়ে যান। মহাকাশ থেকে তিনি পবিত.
কোথাও নেই প্রতাপশালী যুবলীগ চেয়ারম্যান

হঠাৎ করে হাওয়া হয়ে গেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। হাজার হাজার নেতা-কর্মী ঘেরা সংগঠনটির চেয়ারম্যানকে দেখা যাচ্ছে না। ব্যাংক হিসাব তলব ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে বিরত আছেন। আসন্ন জাতীয় কংগ্রেস তার অনুপস্থিতিতেই হতে পারে।প্রভাব-প্রতিপত্তি, হাজারও নেতার উপচে পড়া ভিড় আর বিশাল গাড়িবহরের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ফলে বাধ্য হয়েই নির্জন-নিভৃতে চলে গেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
নিজেকে তরুণ ভাবাপন্ন ৭১ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একক ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। এককভাব চালিয়ে যান নানা অপকর্ম।ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে যুবলীগ চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য নেতার সম্পৃক্ততার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে সংগঠনটি। রোববার এ কমিটি গঠন করা হবে বলে যুগান্তরকে জানান যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আতাউর রহমান।ইতিমধ্যে ৩ বছর মেয়াদি যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব টেনে ৭ বছর পার করেছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। যথাসময়ে সম্মেলন করেননি। এবার ২৩ নভেম্বর সংগঠনটির জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই সর্বশেষ জাতীয় কংগ্রেসে যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওমর ফারুক চৌধুরী।

অভিযোগ আছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি অনেক নেতাকে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন। পদভেদে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। ফ্রিডম পার্টি ও যুবদলের অনেকে টাকার বিনিময়ে ঠাঁই পেয়েছেন যুবলীগে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা জানান, বিগত সাত বছরে তারা চেয়ারম্যানের ভয়ে তটস্থ ছিলেন। মুখ বুজে সব অপকর্ম সহ্য করেছেন। সংগঠনে সব সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নিয়েছেন। আমাদের শুধু সম্মতি দিতে হয়েছে। তার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিলেই তাৎক্ষণিক বহিষ্কার, অফিসে আসতে বারণ পর্যন্ত করা হয়েছে। তারা বলেন, তার সব অপকর্ম জায়েজ করার মেশিন ছিল যুব জাগরণ প্রকাশনা। এখান থেকে নানা বই ও প্রকাশনা বের করে সবার কাছে ভালো সাজার চেষ্টা করতেন। পুরো সাত বছরে যুবলীগ বলতে আমরা শুধু তাকেই বুঝতাম।

এদিকে ক্যাসিনো-কাণ্ডে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নাম আলোচনায় আসায় দীর্ঘ ৭ বছর ধরে কোণঠাসা নেতারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।শুক্রবার অনুষ্ঠিত সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম বৈঠকে তাকে বহিষ্কার ও নতুন কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বভার দেয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় কংগ্রেসে তিনি যাতে সভাপতিত্ব করতে না পারেন তা নিয়ে অনেকেই কথা বলেছেন।চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় সেখানে।শুক্রবারের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতা, মাহবুবুর রহমান হিরণ, মো. ফারুক হোসেন অভিন্ন সুরে বলেন, যেহেতু উনি (ওমর ফারুক) নেই, তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে কেন পারব না? ব্যক্তির দায় সংগঠন বহন করতে পারে না। উনি উপস্থিত না হলে কাউকে না কাউকে তো সভাপতিত্ব করতে হবে।

তার নামে নানা ধরনের সংবাদ সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে। ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেন, যেহেতু উনি নেই, তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।

ক্যাসিনো-কাণ্ডের শুরুতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ তিন নেতার গ্রেফতারের পর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। তিনি ওই ঘটনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন। প্রশাসনকেও দুষেছেন। যুবলীগের প্রশ্নবিদ্ধ নেতাদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। এর পরের দৃশ্যপট অন্যরকম। এরপর থেকেই তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।

হাসিনাকে নোবেল পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করতেই আবরার হ,ত্যা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে নোবেল পুরস্কার না পান, সেজন্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আবরার হ,ত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।নাছির উদ্দীন বলেন, নির্মমভাবে আবরারকে পিটিয়ে হ,ত্যা করা হয়েছে। এটা অত্যান্ত দুঃখজনক। এটা যারা করেছে তাদের কাছে তো দলের কোনও নির্দেশনা ছিল না। তারা অতি উৎসাহী হয়ে এ হ,ত্যাকাণ্ড করেছে। এখন খুঁজে বের করতে হবে তাদের দিয়ে এ কাজটা কেউ করিয়েছে কি-না?

নোবেল পুরস্কার নিয়ে তিনি বলেন, শান্তিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামটিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় ছিল। যেদিন নোবেল কমিটি নোবেল প্রাইজ ঘোষণার জন্য বসেছে, সেদিন কিন্তু এ কাজটি হয়েছে। এখানে তো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে। ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত থাকতে পারে। যাতে উনি নোবেল প্রাইজটা না পান।

আবরার হ,ত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন উল্লেখ করে মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতোমধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরও এটা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাহফুজুল হক, পতেঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম ইসলাম প্রমুখ।
‘ছাত্রলীগ কি ছাত্রশিবির হয়ে গেছে?’

বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হ,ত্যাকাণ্ডের ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা প্রশ্ন ছুড়েছেন, ‘ছাত্রলীগ কি ছাত্রশিবির হয়ে গেছে?’শিবির সন্দেহে কাউকে পিটিয়ে হত্,যা ওয়ার্কার্স পার্টি সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

তিনি বলেছেন, সম্প্রতি দেশে বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। বুয়েটের ছাত্র আবরারকে ছাত্রলীগ নামধারীরা শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হ,ত্যা করেছে। ছাত্রশিবির একটি জঙ্গিবাদী সংগঠন। কিন্তু জঙ্গিবাদী সংগঠনকে জঙ্গিবাদী কায়দায় দমন করতে চাইলে কোনো পার্থক্য থাকে না। তাদের এই কর্মকাণ্ড ওয়ার্কার্স পার্টি সমর্থন করে না।

শনিবার (১৩ অক্টোর) বেলা ১১টায় শহরের মিনি মার্কেটের পাশ্বর্বর্তী মাঠে সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির অষ্টম সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফজলে হোসেন বাদশা।

সম্মেলনে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, ছাত্ররাজনীতি উন্মুক্ত করতে হবে।

বুয়েট কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের অপরাধ ঢাকতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর অধ্যাদেশকে অস্বীকার করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা চলছে দাবি করে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ইতিহাস বলে, এ দেশের ছাত্রসমাজ পাকিস্তানি দুঃশাসনবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, উনসত্তের গণ-আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বাইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ এখন ছাত্ররাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেললে চলবে না।’ সাতক্ষীরার–১ আসনের (তালা-কলারোয়া) সাংসদ, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য জেলা সভাপতি আইনজীবী মুস্তফা লুৎফুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন দলীয় নেতা মহিবুল্লাহ মোড়ল, অধ্যাপক সাব্বির হোসেন, আইনজীবী ফাহিমুল হক, মইনুল ইসলাম প্রমুখ।ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলন উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সাংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ।

কা’রাগারে আবরার হ’ত্যার আসামী অনিককে গণপি’টুনি দিলো আসামিরা

নির্মম নি’র্যাতনে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’ত্যা মামলায় আসামী ছাত্রলীগ নেতা অনিক সরকারকে কারাগারে গণপিটুনি দিয়েছে আসামিরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে গ্রে’প্তারের পর রি’মান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে পৌঁছাতেই ক্ষুব্ধ বন্দিরা হাম’লায় পড়ে অনিকের ওপর। কা’রারক্ষীদের চেষ্টায় র’ক্ষা পান অনিক।

কারা সূত্র বলছে, আবরারের মতো মেধাবী ছাত্রের এমন নি’র্মম মৃ’ত্যু অন্য সব সাধারণ মানুষের মতো মেনে নিতে পারেননি কা’রাবন্দি কয়েদি এবং হাজতিরা। ম’দ্যপ অবস্থায় অনিক কয়েক দফায় আবরারকে মা’রধর করেছিল। গু’রুতর অবস্থায় আবরার দুই দফা ব’মি করলেও অনিকের ভ’য়ঙ্কর রূপ থেকে রক্ষা পায়নি মৃ’তপ্রায় আবরার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ হ’ত্যাকা ফলাও করে প্রচার হওয়ায় এর খুঁটিনাটি জানতে পারেন কা’রাবন্দিরাও। ঘটনার পর দিনই অনিককে গ্রে’প্তার করে ডিবি পু’লিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রি’মান্ডে নেয় পু’লিশ। প্রথম দফা রি’মান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় রি’মান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আদালতে পাঠায় পু’লিশ। তবে আদালতে যাওয়ার পর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হয় সে।

পরবর্তীতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কেরানীগঞ্জ আদালতে পৌঁছে অনিক সরকারকে বহন করা প্রিজন ভ্যান। আনুষ্ঠনিকতা শেষে প্রধান ফটক দিয়ে কা’রাগারে প্রবেশ করে সে। কা’রাগারের সেলে ঢোকার সময়ই তাকে মা’রধর করেন কারাবন্দিরা। পরে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

অনিক সরকারের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামে। অনিক ওই গ্রামের বাসিন্দা ও কাপড় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুরে হলেও ব্যবসায়িক কাজে পুরো পরিবার মোহনপুর উপজেলা সদরের বড়ইকুড়ি গ্রামে বসবাস করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে অনিক ছোট। এ ছাড়া তাদের পেট্রল পাম্প এবং সারের ডিলারশিপের ব্যবসা রয়েছে.

এতিম খুশিকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ে দিলেন ডিসি!

রংপুর পর্যটন মোটেলে অন্যরক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে খুশি খাতুন (১৮)।বৃহস্পতিবার এ বিয়ের আয়োজক রংপুর জেলা প্রশাসন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিক, বড় বড় ব্যবসায়ী, সংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।এতিম মেয়ে খুশি জানে না বাবা-মা কে। সে বেড়ে ওঠেছিল রংপুরের সমাজসেবা অধিদফতর ও শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (বালিকা)।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মোছা. খুশি খাতুন নামে এতিম মেয়েটি ছোটবেলা থেকে মানুষের বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে ছিল। সেখানে সে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। গৃহকর্তার নির্যাতনে সে ওই বাসা থেকে পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে থানায় সোপর্দ করেন।

২০১৪ সালে ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড রংপুর সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় তাকে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (বালিকা) রাখা হয়। সেখানে ১৮ বছর পূর্ণ হলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদফতরের সহযোগিতায় তাকে কারুপণ্য নামে শতরঞ্জি তৈরি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়া হয়।পরে রংপুর নগরীর নিউ সাহেবগঞ্জ এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে মো. লিমন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি পাকাপোক্ত করে জেলা প্রশাসন। ছেলেটির পেশা রাজমিস্ত্রী।
নবদম্পতি অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তারা একে অপরকে পেয়ে খুশি। এ জন্য তারা জেলা প্রশাসক, সমাজসেবা কর্তৃপক্ষসহ রংপুরের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।তাদের ভবিষ্যৎ বংশধর যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এ জন্য সবার কাছে দোয়া চান তারা।জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, মেয়েটি এতিম। তার বাবা-মা নেই। প্রশাসন পাশে আছে এমন ধারণা যেন এতিম মেয়েটির হয় এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে সে অসহায়ত্ব বোধ করতে না পারে। তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে এ জন্য তাদের নামে পারিবারিক পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন মোটেলে জাঁকজমক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিয়ে দেয়ার আর একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আরও যে ২ শতাধিক অনাথ বাচ্চা আছে তাদের নিয়ে আনন্দ করা এবং তাদেরও বোঝানো যে তোমরা একা নও আমরা সবাই তোমাদের পাশে আছি।