ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

ভারতকে যা দিয়েছেন, বিনিময়ে ভারত তার বিশ লক্ষ নাগরিক বাংলাদেশকে দিয়ে দিবে ! ড. তুহিন মালিক

প্রকাশ: ২০১৯-১০-১২ ০১:০৪:৩২ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৪ ২২:৩৬:৩৪

অনতিবিলম্বে সীমান্ত বন্ধ করুন। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে সেনাবাহিনী নামান। কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনকে ভারতের ‘আভ্যন্তরীন বিষয়’ বলে স্বীকার করেছে বাংলাদেশ সরকার! কিন্তু এবার আসামের প্রায় বিশ লক্ষ মানুষকে বাংলাদেশী নাগরিক বলে বাংলাদেশে বিতাড়নের যে উদ্যোগ ভারত সরকার গ্রহন করেছে, সেটাও কি ভারতের ‘আভ্যন্তরীন বিষয়’ বলে স্বীকার করবে বাংলাদেশ সরকার?

দেশ বিভাগ ও যুদ্ধ কবলিত এই উপমহাদেশে মাইগ্রেশন একটি বহু পুরোনো এবং স্বীকৃত ইস্যু! ভারতের জ্যোতি বসু, সুচিত্রা সেন, সমরেশ মজুমদার। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ। বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ। এরা সবাই মাইগ্রেট করেছে নিজ রাষ্ট্র থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে।

কিন্তু এই স্বীকৃত ইস্যু নিয়ে সর্ব আসাম গণসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে বাংলাদেশী খেদাও আন্দোলনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম খেদাও মিশন নিয়ে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ৩ শাতাধিক মুসলিম হত্যা এবং দেড় হাজারের বেশী মুসলমানকে আহতের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে আসামের মরিগণ জেলায় মোহাম্মাদ হোসেন নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমান্দ্র নারায়ণ নামের এক প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। হেমান্দ্র নারায়ণ ২৫ বছর ধরে ঐ এলাকা শাসন করে আসছিলেন। এতে করে গণসংগ্রাম পরিষদ প্রতিশোধ নেশায় পাগল হয়ে যায়। যার ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয় নীল গনহত্যা। ৬ ঘণ্টা স্থায়ী এই হত্যাযজ্ঞে ৫০০০ মুসলিম হত্যা করা হয়েছিল। যার মধ্যে অধিকাংশ ছিল নারী ও শিশু। এরপর ২০১২ সালে আসামের কোকড়াঝড় শহরে আবারো মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। ভূমির মালিকানা নিয়ে মুসলিম বিরোধী এ দাঙ্গায় ৪৩ জন নিহত ও কয়েকশ আহত হয়।

আসলে ভারতের উগ্র হিন্দুবাদী সরকার শুধুই আসামের মাটি চাইছে, আসামের ভোট চাইছে। আসামের মাটি তাদের প্রিয়, আসামের মানুষ নয়। আর এটাকেই বলে ‘পোড়ামাটি নীতি’। যেমনটা তারা কাশ্মীরে চেয়েছে।

বাংলাদেশের সামনে এটা এক কঠিন দুঃসময়। বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, ভারতের বিশ লক্ষ মানুষকে বাংলাদেশী নাগরিক বলে বাংলাদেশে বিতাড়নের প্রচেষ্টা ভারতের ‘আভ্যন্তরীন বিষয়’ নয়। এটার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থহানীই ঘটবে সবচেয়ে বেশী। এই কথা বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ্যে বলতে হবে। সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচারনা চালাতে হবে। দলমত নির্বিশেষে এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে এই আগ্রাসনের জোড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

অনতিবিলম্বে সীমান্ত বন্ধ করতে হবে। তিন স্তরের সীমান্ত চেকপোষ্ট বসাতে হবে। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে সেনাবাহিনী নামাতে হবে। যে কোন রকমের পুশইনের কঠোর জবাব দিতে হবে। একটা পুশইন হলে দশটা পুশব্যাক করে জবাব দিতে হবে।

যেহেতু এটা ভারতের একটি ধর্মীয় ইস্যু। তাই সবার আগে আমাদের নিজেদের ধর্মীয় সম্পৃতি সুরক্ষিত রাখতে হবে। এটা ভারতের হিন্দু-মুসলিম ইস্যু। আর তাই, কোনভাবেই এটাকে আমাদের হিন্দু-মুসলিম ইস্যু বানানো যাবে না। এটা ভারতীয় নাগরিকত্বেরও ইস্যু। ভারতের উগ্র হিন্দুবাদী সরকার আসামের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে বাংলাদেশে বিতাড়নের যে নগ্ন খেলায় নেমেছে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর কঠিন থেকে কঠিনতম প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় স্বার্থে নোবেল কিংবা মানবতার আম্মা উপাধির লোভ সংবরণ করতে হবে। ভারতকে যা দিয়েছেন, ভারত তা কখনই সারাজীবন মনে রাখবেনা! হ্যাঁ, বিনিময়ে ভারত শুধু তার বিশ লক্ষ নাগরিক বাংলাদেশকে দিয়ে দিবে!

হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে,কিন্তু মুসলমানদের নয় : অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের এনআরসি নিয়ে বিন্দুমাত্র শঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। শুধু হিন্দুই নয়, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান শরণার্থীদেরও এনআরসি-র মাধ্যমে ভারত ছাড়া হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই।

তবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের তাড়ানো হবে। আর পশ্চিমবঙ্গে অবশ্যই এনআরসি হবে। এর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করিয়ে নেবে মোদী সরকার। রাজ্যজোড়া এনআরসি ভীতির আবহে মঙ্গলবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

পাশাপাশি এনআরসি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যাচার করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শাহ। তিনি বলেন, দেশ থেকে একজন শরণার্থীও বাদ যাবেন না, দেশে একজনও অনুপ্রবেশকারী থাকবে না। বাংলায় একজনও হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান শরণার্থীদের এনআরসি করে বিতাড়িত করা হবে না।

দেশে আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনা হবেই। অতীতে এই বিলের বিরোধিতা করে আটকে দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল চাইলেও এই বিল আটকাতে পারবে না। আমরা এই বিল পাস করাবই। এই বিল পাস করিয়েই শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে মোদী সরকার।

অমিত শাহ আরও বলেন, এনআরসি নিয়ে বাংলায় মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বিজেপি কর্মীদের বলছি, আপনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান মানুষকে। এনআরসি নিয়ে মমতাদি মিথ্যাচার করছেন। উনি বলেছেন, লাখো লাখো হিন্দু শরণার্থীকে তাড়ানো হবে।

আমি বলছি, কোনও হিন্দু শরণার্থীকে ভারত ছাড়া করা হবে না। অনুপ্রবেশ নিয়ে সংসদে সরব হয়েছিলেন মমতাই। যদি ভুলে যান, তাহলে পুরনো ফুটেজ দেখুন। অনুপ্রবেশকারীরা তৃণমূলের

মহাকাশ জয়ী গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী !

মহাকাশ নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। সে কারণেই মহাকাশ নিয়ে মানুষের গবেষণার শেষ নেই। মৃ’ত্যুকে নিশ্চিত জেনেও মানুষ এ মহাকাশ ভ্রমণের দুঃসাহসিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে। মহাকাশ জয়ের এ অভিযানে অন্যদের পাশাপাশি অবদান রেখেছে গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণে গিয়ে ৩ অক্টোবর ফিরে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুসলিম নভোচারী হাজ্জা আল-মানসুরি। তারা মুসলিম বিশ্বের জন্য গর্ব।

গর্বিত ১১ জন মুসলিম মহাকাশ নভোচারির সদস্যরা হলেন- >> সুলতান বিন সালমান আল-সৌদি (সৌদি আরব) সুলতান বিন সালমান প্রথম মুসলিম নভোচারী। যিনি মহাকাশ ভ্রমণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি প্রথম মুসলিম ও আরব নাগরিক হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৭ জুন ‘এসটিএস-৫১ জি’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৬ সালের ২৭ জুন জন্ম নেয়া সুলতান বিন সালমান ২৯ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

>> মোহাম্মদ ফরিস (সিরিয়া) মোহাম্মাদ ফারিস দ্বিতীয় মুসলিম মহাকাশ নভোচারী। যিনি ১৯৮৭ সালের ২২ জুলাই ‘মীর ইপি-১’ মহাকাশযানে প্রথম সিরীয় নাগরিক ও দ্বিতীয় আরব হিসেবে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ২৬ মে জন্ম নেয়া ৩৬ বছর বয়সী ফারিস নভোচারীর খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি অর্ডার অব লেলিন ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

মুসা মানারোভ (আজারবাইজান(আজারবাইজান) তৃতীয় মহাকাশ নভোচারী গর্বিত মুসলিম সদস্য হলেন মুসা মানারোভ। যিনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ২ বার মহাকাশ ভ্রমণে অবস্থান করেন। ৫৪১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন তিনি। তিনি ১৯৮৭ সালে ‘মীর নিউ-৩’ মহাকাশযানে প্রথম বার এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে ‘সুয়েজ টিএম-১১’তে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালের ২২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমবার মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর। তিনিও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন ও অর্ডার অব লেলিনসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

>> আবদুল আহাদ মোহামান্দ (আফগানিস্তান) আবদুল আহাদ মোহামান্দ ৪র্থ মুসলিম এবং প্রথম আফগান হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট ‘মীর ইপি-৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ২৯ বছর। তিনি মহাকাশে ৯ দিন অতিবাহিত করেন। তিনিই প্রথম মহাকাশ নভোচারী যিনি মহাকাশে পবিত্র কুরআনুল কারিম নিয়ে ভ্রমণ করেন।

>> তোক্তার আউবাকিরভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের প্রথম ও পঞ্চম মুসলিম হিসেবে তোক্তার আউবাকিরভ মহাকাশ নভোচারী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি ১৯৯১ সালের ২ অক্টোবর ‘সুয়েজ এম-১৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৪৬ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া তোক্তার ৪৫ বছর বয়সে এ ভ্রমণ করেন। তাকে হিরো অব দ্য কাজাখাস্তান ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ আরও বেশ কিছু সংস্থা কর্তৃক মহাকাশবিষয়ক সম্মাননায় ভূষিত হয়।

>> তালগাত মুসাবায়েভ (কাজাখাস্তান) তালগাত মুসাবায়েভ। কাজাখাস্তানের দ্বিতীয় নভোচারী ও ৬ষ্ঠ মুসলিম হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে অবস্থান করেন। ৩ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তিনি ৩৪১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট অবস্থান করেন। মুসাবায়েভ প্রথমবার ১৯৯৪ সালের ৪ নভেম্বর, দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালের ২৫ অগস্ট এবং তৃতীয় বার ২০০১ সালের ৬ মে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ৭ জানুয়ারি জন্ম নেয়া এ নভোচারী ৪৩ বছর বয়সে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি কাজাখাস্তান জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

>> সালিজান শারিপভ (রাশিয়া) সপ্তম মুসলিম নভোচারি হিসেবে রাশিয়ার সালিজান শারিপভ মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ জানুয়ারি ‘এসটিএস-৮৯’মহাকাশযানে প্রথমবার এ ভ্রমণ করেন। তিনি ২ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন। দ্বিতীয়বার ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবরে তিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট জন্ম নেয়া এ নভোচারী সর্বপ্রথম ৩৪ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

তিনি হিরো অব দ্য রাশিয়ান ফাউন্ডেশন পুরস্কার লাভ করেন। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের উজবেক জাতীয়তাবাদী প্রথম মহাকাশ নভোচারীর তালিকায়ও তিনি নাম লেখান। নুশেহ আনসারি অষ্টম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম মুসলিম নারী ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক আনুশেহ আনসারি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি প্রথম ইরানি-আমেরিকান মুসলিম হিসেবে ‘সুয়েজ টিএমএ-৯’ মহাকাশযানে ২০০৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর এ ভ্রমণ করেন।

তিনি ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণকারী প্রথম নারী ও চতুর্থ ব্যক্তি। ১৯৬৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইরানে জন্ম নেয়া আনুশেহ ৪০ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ও ইয়াং এন্টারপ্রেনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডসসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

>> শেখ মুসজাফার শুকুর (মালয়েশিয়া) মহাকাশ নভোচারী মালয়েশিয়ান নাগরিক শেখ মুসজাফর। নবম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর ‘সুয়েজ টিএমএ-১১’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী মুসজাফার শুকুর মহাকাশে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করেন এবং নামাজের সে দৃশ্য ভিডিও প্রচার করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া এ মালয়েশিয়ান মহাকাশে ১০ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৫ বছর।

>> আইদিন আইমবেটোভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের তৃতীয় নাগরিক হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন দেশটির এয়ার ফোর্সের মেজর জেনারেল আইদিন আইমবেটোভ। তিনিই প্রথম মহাকাশে কাজাখাস্তানের পতাকা বহন করেন। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ‘সুয়েজ টিএমএ-১৮এম’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী আইদিন মহাকাশে ৯ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া এ নভোচারীর মহাকাশ ভ্রমণের সময় বয়স ছিল ৩৭ বছর।

>> হাজ্জা আল মানসুরি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ নভোচারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে নাগরিক হাজ্জা আল-মানসুরি। তিনি ‘সুয়েজ এমএস-১৫’ নামক মিশনে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশ ভ্রমণে তিনি পবিত্র কুরআন সঙ্গে নিয়ে যান। মহাকাশ থেকে তিনি পবিত


সেক্যুলারের আসল চেহারা
:

আল্লাহ লিখলে সমস্যা, ভগবান লিখলে ঠিক আছে : আসিফ নজরুলতসলিমা নাসরিনের শিবলিঙ্গ পুজোয় সমস্যা নাই, সমস্যা আছে আবরারের নামাজ পড়া নিয়ে। এই বিকারগ্রস্থ মহিলাকে নিয়ে কখনো লিখিনি আমি। কিন্তু তার একথার উল্লেখ প্রয়োজন হলো এটা বলতে যে বাংলাদেশের বহু ছদ্মবেশী সেক্যুলারের আসল চেহারা তসলিমার মতো।কেউ আল্লাহ লিখলে তাদের সমস্যা হয়, ভগবান বা ঈম্বর লিখলে ঠিক আছে। আরো কতো কিছু!
অথচ সেক্যুলার মানে হচ্ছে সব ধর্ম সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল থাকা অথবা কোন ধর্ম সম্পর্কেই বিরূপ মন্তব্য না করা। যারা একচোখা হয়ে শুধু একটা ধর্মে সমস্যা খোজে তারা সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক ও মানবতার শত্রু।

আমার নাতি বাড়িতে আসে না কেন? বাড়িতে এতো লোকজন কেন: আবরারের দাদা

নিউজ ডেস্ক : আবদুল গফুর বিশ্বাস। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের ৮৭ বছর বয়স্ক এই বৃদ্ধ বুয়েট ছাত্রলীগের নি’র্ম’মতার বলি হওয়া শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাদা। বয়সের ভারে স্মৃতিশক্তি লোপ পেলেও আবরারকে নিয়ে কিছু ঝামেলা হয়েছে সেটি তিনি বুঝতে পেরেছেন।

সোমবার বাড়িতে সাংবাদিকদের আনাগোনা দেখে কৌতুহলী আব্দুল গফুর বিশ্বাস জানতে চান কী হয়েছে? পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সত্য আড়াল করে তাকে জানানো হয়, আবরার সড়ক দু’র্ঘট’নায় আ’হত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং এখন ভালো আছেন। আগামীকাল আবরার বাড়িতে ফিরবে।

সত্য বড় নি’র্মম! আবরার বাড়ি ফিরেছেন বটেই কিন্তু এ ফেরাই শেষ ফেরা। আর কখনো বুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরে যাবেন না, দাদা বলে ডাকবেন না আবদুল গফুর বিশ্বাসকে। এই ধ্রুব সত্য কথা তাকে জানানোর ভাষা কেউই যেন খুঁজে পাচ্ছে না।

যমুনা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালনের একটি প্রতিবেদনে দাদাকে তার প্রিয় নাতির মৃ’ত্যুর খবর না জানানোর খবর উঠে এসেছে।
বৃদ্ধ আব্দুল গফুর বিশ্বাসের ৫ ছেলে চাকুরির সুবাদে বাড়ির বাইরে থাকেন। একসাথে এত লোক কখনও তাদের বাড়িতে আসেন না। অনেকে কা’ন্নাকা’টি করছেন, অনেকেই ভারাক্রান্ত। সব মিলিয়ে অজানা শঙ্কা আবদুল গফুরের মনে।

মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে আবরার ফাহাদের ম’রদে’হ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যখন তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালো তখনো আব্দুল গফুর বিশ্বাসকে কিছুই জানানো হয়নি। তাকে সবকিছুর আড়ালে রাখার একটা প্রচেষ্টা পরিবার-পরিজনদের। একসাথে এতো আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী আর গ্রামের লোকজনকে দেখে সবার কাছে জানতে চান কী হয়েছে? অনেকেই কথা দিয়ে এটা সেটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন, অনেকে আবার পাশ কাটিয়ে নীরবে চলে যাচ্ছেন।

গতকাল ব্যাকুল হয়ে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চাইলেন, তোমরা না গত কালকে বললা আমার নাতি এক্সিডেন্ট করেছে? আজকে বাড়ি আসবে। আমার নাতি বাড়িতে আসছে না কেন, আর আমার বাড়িতে এতো লোকজন কেনো? কিছু প্রশ্নের উত্তর হয় না। নির্বাক দর্শকদের ভূমিকা পালন করা ছাড়া খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয়নি।

শুধু রায়ডাঙ্গা না, কুষ্টিয়া না, সারাদেশে যখন আবরার হ’ত্যাকা’ণ্ড নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে, দেশি-বিদেশি মিডিয়াগুলো ফলাও করে আবরারকে ন্যাক্কারজনকভাবে হ’ত্যার সংবাদ পরিবেশন করছে, তখনো দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাস আজানা শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করে আছেন, মেধাবী নাতি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে…

আব্দুল গফুর বিশ্বাসের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আবরার তাকে নিয়মিত দেখতে আসে কিনা। তিনি বলেছিলেন, ছুটিতে বাড়িতে আসলেই গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসতো আবরার। খোঁজখবরও নিতো। মেধাবী নাতিকে নিয়ে গর্বিত এই বৃদ্ধ জীবনের শেষলগ্নে এসেও স্বপ্ন দেখেন তার নাতি অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে। যদিও তার এবং পরিবারের একসময় চাওয়া ছিল আবরার ডাক্তার হবে।

কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছিলেন আবরার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। কিন্তু, নিজের ইচ্ছাতেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। অত্যন্ত মেধাবী আবরার ফাহাদের মৃ’ত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশিরা। আর বৃদ্ধ দাদা তো প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন- নাতি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। যে প্রতীক্ষার কোনো শেষ নেই…
ছাত্রলীগ ছাড়ার আসল কারণ জানালেন ভিপি নুর
নিউজ ডেস্ক: আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর সংগ্রা’মী চেতনাকে ধারণ করে ছাত্রলীগ করেছি। আমি যখন দেখেছি ছাত্রলীগের মধ্যে থেকে সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করতে হয় তখন আমি ছাত্রলীগ থেকে সরে গেছি। আমাকে কেউ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করেনি। ছাত্রলীগের যে সন্ত্রা’সী রূপ সেটা সারা জাতি দেখেছে, বিশ্ব দেখেছে।’

আহ ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গণপদযাত্রা শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরার ফাহাদ হ’ত্যাকারীদের বিচার চেয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।এ সময় ডাকসু ভিপি বলেন, ‘ছাত্রলীগ একটি শো’কর‌্যালি করেছে। কিন্তু এটি তো তাদের কার্যক্রম নয়। আমরা বলব, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিক, আর কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের নির্যা’তনের শিকা’র হবে না।’

ভিপি নুর বলেন, ‘বুয়েটে যদি ছাত্ররাজনীতি নি’ষিদ্ধ হয় তাহলে সারা বাংলাদেশে স্বৈ’রত’ন্ত্র কায়েম হবে। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, আজ আবরার ফাহাদ হ’ত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। রাজনীতি যদি বন্ধ করে দেওয়া তাহলে সেটি আমাদের জন্য ভ’য়ংকর পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে। দেশকে স্বৈ’রত’ন্ত্রের দিকে ধাবিত করবে। তাই সন্ত্রা’সী ছাত্ররাজনীতি বন্ধ চাই আমরা।’

ভিপি নুর আরও বলেন, ‘আবরার হ’ত্যাকা’ণ্ডসহ সব ছাত্রের হ’ত্যার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররা যেন ট’র্চার সেলে নির্যা’তনের শিকা’র না হয়। শুধু ক্ষমতাসীন দল নয় আমরা দেখেছি যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের সংগঠনগুলো কিন্তু এই একই কাজ করেছে।’

দুই দলের শক্তির পার্থক্য অনেক। কাতার এশিয়ার অন্যতম ফুটবল শক্তি। অন্যদিকে র‍্যাংকিংয়ের তলানির দল বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় হয়েছে কাতরের। তবে লড়াকু ফুটবল খেলে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে লাল-সবুজের দলকে হারিয়ে দিয়েছে ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজকেরা। এই নিয়ে বাছাইয়ে টানা দুই ম্যাচ হারল জেমি ডের দল। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল জেমি ডের শিষ্যরা।

আজ বৃহস্পতিবার ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচটি দেখতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় ভরে উঠেছিল। শুরু থেকেই রক্ষণ সামলে দারুণ খেলছিল বাংলাদেশ। অষ্টম মিনিটে রায়হান হাসানের লম্বা পাস ধরে সাদউদ্দিন ক্রস পাঠালেও তা থেকে গোল করার কেউ ছিল না। পরের মিনিটে কর্নার থেকে ইয়াসিনের হেডের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে জামাল ভূইয়ার শট দুরের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

২৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এবারেও মিস। বিপলু আহমেদ বলের নাগাল পাওয়ার আগেই বল নিরাপদ দূরত্বে পাঠিয়ে দেন কাতারের এক ডিফেন্ডার। ২৮তম মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে অরক্ষিত থাকা ইউসুফ আব্দুরিসাগ প্লেসিং শটে জালে বল জড়িয়ে দেন। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে সুযোগ পেলেও কাতারের ডিফেন্ডাররা তা ব্যর্থ করে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধের ৭০তম মিনিটে জীবনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সুফিল। ৭১তম মিনিটে ইয়াসিন খানের হেড গোলকিপার ফিরিয়ে দেন। ইয়াসিনের আরেকটি শটও গোলকিপারের সৌজন্যে জাল খুঁজে পায়নি। ৭৪তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা সুফিলের ক্রসে জামালের শট ফিরিয়ে দেন কাতারের এক ডিফেন্ডার। যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের জটলার ভেতর থেকে করিম বৌদিফ গোল করে বাংলাদেশের হার নিশ্চিত করেন। ২-০ ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়লেও লড়াকু ফুটবল খেলে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ। অনেকেই এটাকে দেশের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

মন্তব্য