ঢাকা, আজ শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১

সম্রাটের ৩ স্ত্রী কে কোথায় থাকেন?

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৬ ১৪:৩৫:১২ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৬ ১৪:৩৫:১২

ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের তিনজন স্ত্রী রয়েছেন। এর মধ্যে একজন বিদেশি স্ত্রী আছে বলেও জানা গেছে।সম্রাটের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে এ খবর বেরিয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, সম্রাটের দুই স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রী বাড্ডায় থাকেন। প্রথম পক্ষে সম্রাটের এক মেয়ে। তিনি পড়াশোনা শেষ করেছেন।সম্রাটের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী মহাখালীর ডিওএইচএসে থাকেন। তার এক ছেলে। তিনি মালয়েশিয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

সিঙ্গাপুরে সম্রাটের বিদেশি একজন স্ত্রী আছে বলেও পারিবারিক সূত্রটি জানায়। তবে ওই স্ত্রীর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সূত্রটি জানিয়েছে, সম্রাট মহাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসাতেই স্থায়ীভাবে থাকতেন। তবে দুই বছর ধরে তিনি বাসায় যেতেন না। কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে থাকতেন।

তবে বাসার বাইরে থাকলেও গাড়ির চালকের খরচসহ পরিবারের সব খরচ দিতেন সম্রাট।সম্রাটরা তিন ভাই। এক ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। আরেক ভাই সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। সম্রাটের মা ভাইদের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। সম্রাটদের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে।প্রসঙ্গত রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী যুবলীগে নেতা এনামুল হক আরমানকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব।

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় সমগ্র উপমহাদেশ বিপাকে পড়েছেন। সেদিকেই ইঙ্গিত করে রসিকতার সুরে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিন্দি ভাষায় বলতে শুরু করেন, পেঁয়াজ মে থোড়া দিক্কত হো গিয়া হামারে লিয়ে। মুঝে মালুম নেহি, কিউ আপনে পেঁয়াজ বন্ধ কর দিয়া! ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ কারদো।

(পেঁয়াজ নিয়ে একটু সমস্যায় পড়ে গেছি আমরা। আমি জানি না, কেন আপনারা পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলেন। আমি রাঁধুনীকে বলে দিয়েছি, এখন থেকে রান্নায় পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও।)

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় পেঁয়াজ নিয়ে ভারতকে হালকা খোঁচা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাতেই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভোল পাল্টালো দিল্লি। ইতোমধ্যে দেশে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অন্যতম রুট সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দিয়ে ১৮৯ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে এসেছে।

শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) ভারতের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত ইন্ডিয়া ইকনমিক সামিটে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় তিনি হিন্দিতে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের উদ্দেশে বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে আমাদের সামান্য সমস্যা হয়ে গেলো। আমি জানি না, কেন আপনারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমি আমার রাঁধুনীদের বলে দিয়েছি, এখন থেকে তরকারিতে পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ আপনারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের মুশকিলে ফেলে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো পণ্য রফতানি বন্ধ করার আগে আমাদেরকে জানালে আমরা সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে পারি।

তার এমন বক্তব্যের পরই ভোল পাল্টেছে নয়া দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা যা বলেছেন, সেটা আমাদের চোখে পড়েছে। তার এই উদ্বেগ কীভাবে প্রশমিত করা যায়, কীভাবে এই কনসার্নটা অ্যাকোমোডেট করা যায়, তা আমরা দেখছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির জন্য রোববারের আগে যেসব এলসি খোলা হয়েছিল সেগুলোও কিন্তু আমরা এখন অনার করছি। সেই পেঁয়াজ বাংলাদেশে যেতেও শুরু করেছে।

এদিকে চারদিন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অন্যতম রুট সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দিয়ে ১৮৯ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে এসেছে। শুক্রবার বিশেষ ব্যবস্থায় ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর থেকে এই পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসে। দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে ও আইন অনুয়ায়ী এই পেঁয়াজের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পেরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েসন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান পেঁয়াজ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছুটির মধ্যেও দু’দেশের দু’বন্দরের সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতায় শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৮৯ ভারতীয় ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ করেছে। তবে এর মধ্যে কিছু পেঁয়াজ বাংলা ট্রাকে খালাস হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয়ে গেছে। এই ১৮৯টি পেঁয়াজের ট্রাক মহদীপুরে অপেক্ষমান ছিল।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বেড়ে ১২০ টাকায় পৌঁছায়। প্রতিদিনের রান্নায় বহুল ব্যবহৃত এই সামগ্রীর এমন দামে ক্রেতাদের মনে তৈরি হয় উদ্বেগ, বাজারে তৈরি হয় অস্থিরতা।

ভারতের শিল্প ও রেলপথ মন্ত্রী পিযূস গয়াল, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, অ্যসোসিয়েটেড চেম্বারস অব কমার্স অব ইনডিয়ার (অ্যাসোচাম) সভাপতি বালকৃষাণ গোয়েঙ্কাসহ দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।