ঢাকা, আজ শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১

ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত যমজ ২ বোনের!

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৫ ১৯:৫৩:০০ || আপডেট: ২০১৯-১০-০৫ ১৯:৫৩:০০

সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া- তারা দুজনে যমজ দুই বোন। লেখাপড়ায় তারা দু’বোনই সাফল্যের প্রমাণ রেখেছেন। মাধ্যমিকে ‘এ প্লাস’ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ পেয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেয়েছেন তারা দু’বোনই।

বাগেরহাট জেলা সদরের পৌরসভার হরিণখানা গ্রামের দিনমজুর বাবা মহিদুল হাওলাদার আর গৃহিণী মা শাহিদা বেগমের যমজ এ সন্তান প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেলেও ভর্তিসহ পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ মিললেও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সেই স্বপ্ন পূরণের। এগিয়ে যাওয়ার এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সমস্যা।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (গ ইউনিট) বাণিজ্য অনুষদে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার মেধাক্রম ১১৬৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

আরও পড়ুন: ঢাবি মেধাতালিকায় দিনমজুরের মেয়ে, টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত!

সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া জানান, আমরা চান্স পেয়েছি। তবে ভর্তি নিয়ে এবং পরের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বৃত্তির জন্য আবেদন করেছি, তবে এখনো গ্রহণ করা হয়নি। এছাড়া ভর্তির টাকা ম্যানেজ হয়েছে কিনা তাও জানি না। ৩১ তারিখের মধ্যে আমাদের ভর্তি হতে হবে।

ওই দুই বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, তাদের পিতা একজন দরিদ্র দিনমজুর, মা গৃহিনী। বড় কোন ভাই নেই। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত টিউশনি করিয়ে পড়াশুনার খরচ জোগাড় করেছি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দুই বোন‌ই জিপিএ-৫ (গোল্ডেন A+) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঢাবি মেধাতালিকায় দিনমজুরের মেয়ে, টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত!

তাদের দুই বোনেরই স্বপ্ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার। ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর। বর্তমানে ভর্তির জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এছাড়া পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে দুই বোনের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব। এজন্য তারা বৃত্তির আবেদন করেছেন।

মা শাহিদা বেগম জানান, অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্যে দুই মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। ওরা পড়ালেখা করতে চায়। ওরা সুযোগ পেয়েছে আমারও ইচ্ছা পড়ালেখা চালিয়ে যাক। তবে আমার যে সামর্থ্য তাতে দুইজনকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো অনেক কষ্ট। তারপরও চেষ্টা করছি সকলের সাহায্য নিয়ে যদি দুজনকে ভর্তি করতে পারি। তাহলে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবে ওরা।

তিনি আরও বলেন, দুই বোনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সে পরিমাণ টাকা আমরা জোগাড় করতে পারছি না। এ কারণে পরিবারের সবাই চিন্তায় আছি।

লিফট কেনার অভিজ্ঞতা নিতে ইউরোপ যাচ্ছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ নয়জন

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লিফট কেনা হবে। অভিজ্ঞতা নিতে তাই ইউরোপের দুটি দেশে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ নয়জন।

প্রাক চালান পরিদর্শন বা প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন হিসেবে তারা ইউরোপের সুইজারল্যান্ড ও স্পেন সফর করবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

শুক্রবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দেশের শীর্স্থানীয় সংবাদপত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সম্প্রতি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নোটিস বোর্ডে বিদেশ সফরকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে ঢুঁ মেরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হুমায়ুন কবির সুইজারল্যান্ড অ্যাম্বাসি বরাবর সেনজেন ভিসার জন্য আটজনের নামে পৃথক একটি করে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেন।

তবে রেজিস্ট্রারের আবেদনে স্বাক্ষর করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ আনিসুর রহমান। উল্লেখ করা হয়, প্রি-শিপপেমন্ট ইন্সপেকশনের জন্য চলতি মাসের ২০ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ওই দুই দেশে সফরে থাকবেন তারা।

এ সময় তাদের বিমান ভাড়া থেকে যাবতীয় ব্যয় বহন করবে ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স।

যারা সফরে যাচ্ছেন তারা হলে- ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম মুস্তাফিজুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর মো. জালাল উদ্দিন, রেজিস্ট্রার ড. মো. হুমায়ুন কবির, প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইঞ্জিনিয়ার মো. হাফিজুর রহমান, সহকারী প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহবুবুল ইসলাম, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল রানা, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাবুদ্দিন ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে।

এদের মধ্যে সাতজনেরই লিফট সম্পর্কে কোনো কারিগরি জ্ঞান নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে চলছে কানাঘুষা। অনেকেই হিসাব কষছেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্যয় বহন করলেও প্রতিষ্ঠানটির কী লাভ?

জানা গেছে, সমাজবিজ্ঞান ও ব্যবসা অনুষদের জন্য ১০ তলা করে দুটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এখনো ভবন দুটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এর মধ্যেই লিফটের জন্য বিদেশ সফর করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সাত শিক্ষক ও দুই প্রকৌশলী।

ইঞ্জিনিয়ার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্প আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। অন্যটি ২০২৩ সালের জুনে শেষ হবে। এসব প্রকল্পে বিভিন্ন ভবনের জন্য সব মিলিয়ে ১৫টি লিফট প্রয়োজন। আর সে জন্যই আমরা ইউরোপের দুটি দেশে যাচ্ছি।’

তিনি জানান, দুটি ক্যাটাগরিতে লিফট আনা হবে। এর মধ্যে একটি ক্যাটাগরিতে ধারণক্ষমতা রয়েছে ১০০০ কেজি ও অন্যটি ১২৫০ কেজি। সর্বমোট ব্যয় হবে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি প্রফেসর ড. এ এইচ এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি যাচ্ছি না। নয়জনের একটি টিম যাবে।’

তাহলে আপনার নামে কেন এনওসি ইস্যু করা হলো? এমন প্রশ্নে ভিসি বলেন, ‘আমার নামে কোনো এনওসি ইস্যু হয়নি। আপনি কোথায় দেখেছেন? আমি একটি মিটিংয়ে আছি।’

এদিকে ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ার্সের এরিয়া মার্কেটিং অফিসার জুবায়ের আহমেদ রিজভী কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিফট সরবরাহের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫০০৩ (বাণিজ্যিক) মডেলের লিফট কিনবে। ১০০০ কেজির প্রতিটি লিফট সুইজারল্যান্ড থেকে আনতে খরচ হবে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা। আর ১২৫০ কেজির জন্য ৭৫ লাখের কাছাকাছি।’