ঢাকা, আজ সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

দুই বছরে কোটিপতি আশুলিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক

প্রকাশ: ২০১৯-১০-০২ ১৪:৫১:১৯ || আপডেট: ২০১৯-১০-০২ ১৪:৫১:১৯

দুই বছর ধরে সাভারের আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কবির হোসেন সরকার। আর এই দুই বছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি তৈরি করছেন আলিশান বাড়ি, কিনেছেন কোটি টাকার গাড়ি। কবির হোসেনের কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। এরপরও তার এত সম্পদ কিভাবে হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ যুবলীগ নেতারা।

থানার একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, কমিটিতে আসার পর গত দুই বছরে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, কমিটি গঠনের আগে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যাচেষ্টা, চুরি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে চার্জশিটভুক্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কমিটি গঠনের পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ঝুট ব্যবসা দখল, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আশুলিয়া ও কাশিমপুর থানায় দায়ের করা হয় আরও চারটি মামলা। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কবির সরকার ১০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কমিটিতে আসার পর বাড়ির কাজ শুরু করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় জন্ম কবির সরকারের। এই এলাকাতেই তিনি আলিশান বাড়িটি তৈরি করছেন। তিনি নিজে কাশিমপুর এলাকায় বাস করলেও আশুলিয়ার ঠিকানায় নিজের ভোটার আইডি কার্ড করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ২০১৩ সালে নাশকতা ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে কবির সরকারকেও আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায়ও তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।

সাভার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন খান বলেন, ‘বর্তমান আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর আগে কবির সরকারের থানা পর্যায় তো দূরের কথা ওয়ার্ড পর্যায়ে সদস্য পদেও নাম ছিল না। এমন একজন ব্যক্তিকে হঠাৎ করেই আশুলিয়ার মতো এলাকায় যুবলীগের আহ্বায়ক করায় সাবেক যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ।’

এদিকে, কমিটিতে আসার এক মাসের মধ্যেই প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে জমি দখল ও চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠে যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি উজ্জ্বল সরকার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কবির সরকারকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

যুবলীগের সাবেক একাধিক নেতাকর্মী বলেন, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে আসার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিটি গঠন নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে। ইয়ারপুর ইউনিয়নে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে জানতে কবির হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি রজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। প্রতিহিংসা থেকে আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘুষ ছাড়া মুসলিমদের দলিল স্বাক্ষর করে না হিন্দুত্ববাদী সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত (ভিডিও সহ)

সিরাজগঞ্জের শাহ’জাদপুর উপজে’লা সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমা’র দাসের বি’রুদ্ধে ঘুষ ছাড়া কোনো দলিল স্বাক্ষর না করার অ’ভিযোগ উঠেছে। এখানে যোগদানের পর থেকেই দলিল প্রতি সে এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকে। তার কাছে জি’ম্মি সাধারণ জনগণ ও দলিল লেখকরা।

এ নিয়ে তার বি’রুদ্ধে আ’ন্দোলনও হয়েছে কয়েক দফা। কিন্তু সে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বিঘ্নে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রেজিস্ট্রি অফিসে সুব্রত কুমা’র দাসের ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে সে আলোচনায় এসেছে।

গত ১৫ আগস্ট রাতে উপজে’লা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মুহম্মদ সোহেল রানা তার ফেসবুক আইডি থেকে ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তারপর থেকে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং ব্যক্তিগত আইডিতে শেয়ারের মাধ্যমে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমালোচনার ঝড় উঠতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুব্রত কুমা’র দাস শাহ’জাদপুরে যোগদানের পর থেকেই দু’র্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে শাহ’জাদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিস। যেখানে হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের জন্য সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪০ টাকা ও এনফি ২৪০ টাকা। সেখানে সরকারি ফি ব্যতীত প্রতিটি দলিলের জন্য সর্বনিম্ন ঘুষ হিসেবে নেয়া হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

গত ২৭ আগস্ট শাহ’জাদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল লেখকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, দলিল প্রতি কমপক্ষে ১৫০০ টাকা দিতে হয়। না দিলে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে। আর এই টাকাগু’লি সাবরেজিস্ট্রারের পক্ষে গ্রহণ করে সুমন নামে একজন নকল নবিশ। এ ব্যাপারে সুমনকে জিজ্ঞেস করা হলে সে কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে বলে এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে আপনারা কথা বলেন।

ভুক্তভোগী কায়েমপুর ইউনিয়নের ব্রজবালা গ্রামের মুহম্মদ মানিক বলেন, আমি একটি হেবার ঘোষণাপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করতে এলে প্রথম দিন আমাকে নানা অজুহাতে দলিল রেজিস্ট্রি না করে পরে আবার আসতে বলে। আমি পরবর্তীতে অ’তিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে রাজি হলে আমা’র দলিলটি রেজিস্ট্রি করে দেয়।

তথ্য অনুসন্ধানে শাহ’জাদপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমা’র দাস ও সুমনের অ’বৈধ উৎকোচ বিনিময়ের ভিডিও পাওয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়- সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমা’র দাস নিজেই একজন দলিল লেখকের কাছ থেকে উৎকোচ হিসেবে ১৫০০ টাকা নিচ্ছে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি দলিলের উৎকোচ বাবদ আনিসকে প্রথমে তিন হাজার টাকা দিলে আনিস ওই দলিল লেখককে বলেন- স্যার তিন হাজার ৫০০ টাকা দিতে বলেছেন। পরে দলিল লেখক টাকা না দিয়ে সাবরেজিস্ট্রারকে ফোন দিতে বললে আনিস সঙ্গে সঙ্গে সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমা’র দাসকে ফোন দিয়ে কথা বলে তিন হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বলেন তিন হাজার ৫০০ টাকার কমে হবে না। বাধ্য হয়ে উক্ত দলিল লেখক তিন হাজার ৫০০ টাকা দেন।

এ বিষয়ে শাহ’জাদপুর উপজে’লা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মুহম্মদ সোহেল রানা বলেন, আমি নিজে তাকে দলিল সম্পাদনের জন্য কয়েক দফা উৎকোচ দিয়েছি। আমি বিষয়টি প্রকাশ করায় আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি জীবনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমা’র দাস বলে, আমা’র অফিসে কোনো প্রকার ঘুষ নেয়া হয় না। যে ভিডিওগু’লি ভাইরাল হয়েছে সেগুলো আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁ’সানোর জন্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জে’লা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম মুহম্মদ মঞ্জুরুল ইস’লাম বলেন, শাহ’জাদপুরের সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমা’র দাসের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি আমা’র নজরে আসে। আমি গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে ত’দন্ত শুরু করেছি। ত’দন্ত রিপোর্টটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ব্যাখা দিলেন রাবি প্রোভিসি (অডিও)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এক চাকরিপ্রার্থীর স্ত্রীর সঙ্গে উপউপাচার্য ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার নিয়োগবাণিজ্যের ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।এই ফোনালাপ ফাঁসের পর গত সোমবার থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি হয়ে গেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আলোচনার মূল বিষয়।ফাঁস হওয়া ফোনালাপের অডিও রেকর্ডটি যুগান্তর অনলাইনসহ দেশের প্রায় সবক’টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।এবার চাকরিপ্রার্থীর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সংবাদমূল্য বহন করে। কিন্তু একটি ঘটনার আংশিক বা খণ্ডিত অংশ যাচাই না করে প্রচার বা প্রকাশ করা সত্যিই দুঃখজনক। কারণ এক্ষেত্রে সাধারণ পাঠক যেমন ভুল তথ্য পায়, তেমনি ঘটনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গও সামাজিকভাবে মানহানিসহ অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বিজ্ঞপ্তিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি যে, হুদা অসাধু কিছু ব্যক্তির কবলে পড়ে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েছে। এ রকম একটি লেনদেনের ডকুমেন্টও ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখের চাকরির বোর্ডের আগে আমার নজরে আসে (নীলফামারীর সৈয়দপুর শাখার ইসলামী ব্যাংক লি: এর ০৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখের ৮০০০৭৩৯ ক্রমিকের একটি ব্যাংক জমা স্লিপ)। স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে এহেন অসাধুকর্ম রোধকল্পে খোঁজ নেয়ার জন্য হুদার স্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলাম। কারণ হুদার স্ত্রীর বাড়ি সৈয়দপুরে। হুদার স্ত্রী সে সময় ব্যাংক লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন, কিন্তু বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হয়নি।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপটি অসাধু ব্যক্তিদের সম্পর্কে একটি অধিকতর অনুসন্ধানী প্রয়াস ছিল মাত্র বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।আরও দাবি করা হয়, সেই ফোনালাপের এডিট (সম্পাদন) করা অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। যেকোনো এডিটিং সফটওয়্যারে পরীক্ষা করলেই জানা যাবে এটি সম্পাদিত ফোনালাপ যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করি। একই সঙ্গে আশা করি প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে বস্তুনিষ্ট সংবাদের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচন করতে আপনারা সকলেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।উল্লেখ্য, রাবিতে আরেকজন উপউপচার্য থাকলেও বর্তমান উপাচার্য ড. আব্দুস সোবহান তদবির করে চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে দ্বিতীয় উপউপাচার্য নিয়োগ করেন।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চৌধুরী জাকারিয়ার সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীর স্ত্রীর ফোনালাপটি হুবহু স্ক্রিপ্ট আকারে তুলে দেয়া হলো-উপউপাচার্য: হ্যাঁ, সাদিয়া। আমি প্রফেসর জাকারিয়া (চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর।
চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী: আসসালামু আলাইকুম স্যার।উপউপাচার্য: ওয়ালাইকু আসসালাম। আচ্ছা মা, একটা কথা বলো তো, তোমরা কয় টাকা দেয়ার জন্য রেডি আছ।চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী: স্যার, সত্যি কথা বলতে…উপউপাচার্য: না না, সত্যি কথাই তো বলবা। ওপরে আল্লাহতায়ালা, নিচে আমি।চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী: অবশ্যই, অবশ্যই। স্যার, আপনি যেহেতু তার অবস্থা জানেন, আরেকটা বিষয় এখানে স্যার, সেটা হচ্ছে- আপনি হুদার… মানে, এমনিতে সে কতটা স্ট্রিক…, আপনি বোধহয় এটাও জানেন স্যার, একটু রগচটা ছেলে।উপউপাচার্য: আচ্ছা রাখো রাখো, এখান থেকে কথা বলা যাবে না।চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রীর সঙ্গে নিয়োগ নিয়ে দর-কষাকষির বিষয়ে জানতে চাইলে রাবির উপউপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘কী জানি, কোন মেয়ে কখন আসছে।

ওই নারীর সঙ্গে দর-কষাকষির বিষয়ে কথা বলেছেন এবং সেটা রেকর্ড হয়েছে বলে জানালে উপউপাচার্য জাকারিয়া আরও বলেন, ‘আমি মেয়েদের সঙ্গে কথা তো কমই বলি, টেলিফোনে আমি বলি যে, তোমার সঙ্গে দেখা করারও দরকার নেই, কথা বলারও দরকার নেই।