ঢাকা, আজ সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষি’দ্ধ নিয়ে মুখ খুললো ইসলামী ছাত্রশিবির

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৯ ০৬:৩৬:৪৪ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৯ ০৬:৩৬:৪৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নি’ষিদ্ধের দাবি ডাকসুর এখতিয়ার বহির্ভূত ও বাংলাদেশের সংবিধানবিরোধী উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন, সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আহসান আব্দুল্লাহ ও সেক্রেটারী আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এদেশে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির অবস্থান অনস্বীকার্য।

ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে ধৃষ্টতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত ডাকসু গতকাল বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তা আইনগতভাবে সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। কেননা ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোন আইনগত এখতিয়ার ডাকসু বা কোন ছাত্রসংগঠনের নেই। অন্যদিকে এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সংবিধান-পরিপন্থী।

যেখানে বাংলাদেশের সংবিধানের ২ (ক) অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া আছে, সেখানে দেশের অভ্যন্তরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধান বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন বা পদক্ষেপ গ্রহণের এখতিয়ার কোন কর্তৃপক্ষের নেই।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমিতি বা সংঘ গঠন করার অধিকার সংরক্ষিত। এখানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দল গঠন এবং কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

অতএব উপরিউক্ত শর্ত মেনে ৯০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এদেশে প্রতিটি মুসলমানের ইসলামের ভিত্তিতে সংগঠন করার অধীকার সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে কোন বিচ্ছিন্ন স্থান নয়। বাংলাদেশেরই একটি অংশ হিসেবে সংবিধান বহির্ভূত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সুযোগ এখানে নেই। কথিত সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি। তাছাড়া ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও এ বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

তাই ডাকসুর নামে প্রদত্ত এমন বেআইনি ও রাজনৈতিক বিদ্বেষপূর্ণ দাবী অগ্রহণযোগ্য। বরং এই বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী সিদ্ধান্তের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার। নেতৃবৃন্দ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিতই হয়েছিল মূলত এ অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে। অথচ সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ধর্মবিরোধী তথা মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এই অতি উৎসাহি কর্মকান্ডের পেছনে সুদুরপ্রসারী ষড়যন্ত্র আছে বলে ইসলামপ্রিয় ছাত্রসমাজ মনে করছে। দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা এই অনৈতিক, বেআইনি ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। মনে রাখা দরকার, কোন ছাত্রসংসদ বা বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের আইন ও সংবিধানের আওতার বাইরে নয়।

সংবিধান ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছামত আইন তৈরি ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের শামিল। বরং স’ন্ত্রাস, অ’স্ত্রবাজী, চাঁদাবাজি, খু’ন, ধ’র্ষণ, দূ’র্ণীতি আইন ও সংবিধানবিরোধী। আর গর্হিত এসব কর্মকান্ড ছাত্রলীগসহ কিছু ছাত্রসংগঠনের নিত্যদিনের কর্মসূচি। সুতরাং নিষিদ্ধ করতে হলে, অ’স্ত্র ও স’ন্ত্রাসনির্ভর ছাত্রলীগের মত সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা জরুরী৷

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বহুপ্রত্যাশিত এবারের ডাকসু নির্বাচন কারচুপির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়েই ছাত্রলীগ ডাকসুর প্রায় সবগুলো পদ দখল করে ঐতিহ্যবাহী ডাকসুকে কলঙ্কিত করেছে। তারা ডাকসুতে বসে নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ণ করছে। গতকালের বিবৃতিতে তারা ‘সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত’-র কথা উল্লেখ করে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে। যা স্পষ্ট হয়েছে আজকের ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে।

এটি প্রকৃতপক্ষে ডাকসুর মতামতের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ভিপিকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া ছাত্রলীগের দলীয় সিদ্ধান্ত। ডাকসুর এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত ঐতিহ্যবাহি ডাকসু’র অবস্থানকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করবে। যা ছাত্রসমাজ ও ছাত্ররাজনীতিতে বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। এটা কোনভাবেই ছাত্রসমাজের কাম্য নয়। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ডাকসু’র কাজ ছাত্রসমাজের অধিকার সমুন্নত রাখা, অধিকার হরণ নয়।

তাই আমরা আশা করি ডাকসু এ অনৈতিক ও বেআইনি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। আমরা সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী এ সিদ্ধান্তটি বাতিল করে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।