ঢাকা, আজ শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১

কাশ্মীরে তল্লাশির নামে অভিযান চালিয়ে ৬ স্বাধীনতাকামীকে গু’লি করে হ’ত্যা

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৯ ০৬:২৮:৪২ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৯ ০৬:২৮:৪২

কাশ্মীরে তল্লাশির নামে অভিযান চালিয়ে ৬ স্বাধীনতাকামীকে গু’লি করে হ’ত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। শনিবার দিনভর উপত্যকাটির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর সময় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামবানের বাতোতে এলাকায় জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কে স্বাধীনতাকামীরা একটি যাত্রীবাহী বাস থামানোর চেষ্টা করেছে বলে ভারতীয় বাহিনী দাবি করেছে। এরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গোলাগু’লি শুরু হয়।

কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বাসটির চালক ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ইউনিফর্ম পরা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আসতে দেখে বাসের গতি বাড়িয়ে দেন, এরপর পুলিশকে খবর দেনপ্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা বাহিনী হাজির হয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এ সময় দুটি বি’স্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী এনডিটিভিকে জানিয়েছেন।

একই দিনে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুরেজ সেক্টরের গন্ডেরবল এলাকায় দ্বিতীয় হা’মলা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গেরিলারা গু’লিবর্ষণ করলে জওয়ানদের পাল্টা গু’লিতে একজনের মৃ’ত্যু হয়। সেনাবাহিনীর নর্দান কম্যান্ডের পক্ষ থেকে একজন নি’হত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নি’হতের কাছ থেকে প্রচুর অ’স্ত্র ও গু’লিবারু’দ উদ্ধারের দাবি করেছে ভারতীয় বাহিনী।

শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া বি’ক্ষোভের পর ফের উ’ত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত অধিকৃত কাশ্মীর। কাশ্মীর নিয়ে শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জাতিসংঘে দেয়া ভাষণের পরই পাল্টে গেছে উপত্যকাটির পরিস্থিতি। কাশ্মীরের মানবিক সংকট ও সেখানকার নাগরিকদের অবরুদ্ধ জীবনযাপনের বিষয়টি তুলে ধরে ইমরানের বক্তৃতাকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে স্থানীয় জনগণ।

ইমরান খানের বক্তব্যের পর শুক্রবার রাতে শ্রীনগরজুড়ে বি’ক্ষোভ হয়েছে। ইমরান খানের ওই ভাষণের পর রাতেই কাশ্মীরের স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন শত শত কাশ্মীরি। এসময় তারা ইমরান খানের পক্ষে শ্লোগান দেয়। এরপর শনিবার চলাচলের ওপর ফের বিধিনিষেধ আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন।

আরো সংবাদ

ওড়না জড়িয়ে মসজিদে ব্রিটিশ রাজবধূ!

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ব্রিটিশ রাজবধূকে এ সময় মাথায় ঘিয়া রঙের ওড়না পরা অবস্থায় দেখা যায়। আউয়াল মসজিদে ব্রিটিশ রাজবধূ মুসলিম শিশুর সঙ্গে আনন্দমুখর সময় পার করেন
ব্রিটিশ রাজপুত্র হ্যারি ও রাজবধূ মেগান মার্কেল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাচীনতম মসজিদ পরিদর্শন করেছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা দেশটির রাজধানী কেপটাউনে অবস্থিত এই মসজিদ পরিদর্শন করেন।
প্রিন্স হ্যারি ও প্রিন্সেস মেগান বর্তমানে ১০ দিনের এক সফরে আফ্রিকায় রয়েছেন।
কেপটাউনের বো-কাপে অবস্থিত আউয়াল মসজিদ নির্মিত হয় আজ থেকে ২২৫ বছর আগে (১৭৯৪ খ্রি.)—ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে।

মসজিদ পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় মুসলিম নেতারা তাঁদের স্বাগত জানান। তাঁরাও একাধিক মুসলিম নেতা ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মসজিদের ইমাম শায়খ ইসমাইল ও কমিউনিটি নেতা মুহাম্মদ গ্রনওয়াল্ড উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ব্রিটিশ রাজবধূকে এ সময় মাথায় ঘিয়া রঙের ওড়না পরা অবস্থায় দেখা যায়। রাজকীয় দায়িত্ব পালনের সময় এই প্রথম তিনি মাথায় ওড়না পরিধান করলেন। অবশ্য ১৯৯১ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত বাদশাহি মসজিদ পরিদর্শনের সময় প্রিন্স হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়নাও মাথায় ওড়না পরিধান করেন। আউয়াল মসজিদে ব্রিটিশ রাজবধূ মুসলিম শিশুর সঙ্গে আনন্দমুখর সময় পার করেন।

রাজপরিবারের সদস্যরা আউয়াল মসজিদে সংরক্ষিত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম হাতে লেখা কোরআনও পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের বর্ণনা মতে কোরআনটি অনুলিখন করেন আউয়াল মসজিদের প্রথম ইমাম তাউন গুরু। তিনি তাঁর স্মৃতি থেকেই কোরআনের কপিটি অনুলিখন করেন।

তাউন গুরুকে রবিন আইসল্যান্ড থেকে বন্দি করে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে আসা হয়।
উল্লেখ্য, খ্রিস্টীয় সতের শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময় মুসলিম বন্দিদের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলামের আগমন ঘটে। তবে বন্দিকৃত দাসদের তখন ইসলাম পালনের অনুমতি ছিল না। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় দুই ভাগ মানুষ মুসলিম। যাদের সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ।
সূত্র : বিবিসি ও পিপল ডটকম