ঢাকা, আজ শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১

ইসলামের পক্ষে কাজ করার জন্য তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার তিন নেতার উদ্যোগে নতুন টিভি চ্যানেল হচ্ছে !

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৭ ১৫:১২:৪৪ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৭ ১৫:১২:৪৪

তুরস্ক, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি টেলিভিশন চ্যানেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তিন দেশের যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা এই টিভি চ্যানেলটি ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ইসলাম ফোবিয়াসহ বিভিন্ন অপপ্রচার রোধে ভুমিকা রাখবে। এছাড়া মুসলিদের ইতিহাস ঐতিহ্য সঠিকভাবে বিশ্বকে জানাতে ভুমিকা রাখবে চ্যানেলটি।

নিউ ইয়র্কে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মাদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে ইমরান খান তার ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক টুইটে একথা জানিয়েছেন।

Imran Khan ✔ @ImranKhanPTI President Erdogan, PM Mahatir and myself had a meeting today in which we decided our 3 countries would jointly start an English language channel dedicated to confronting the challenges posed by Islamophobia and setting the record straight on our great religion – Islam. 46.7K 1:16 AM – Sep 26, 2019 Twitter Ads info and privacy 18.6K people are talking about this

ইমরান খান লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান, প্রধানমন্ত্রী মাহাথির ও আমি আজ বৈঠক করেছি। যেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের তিন দেশ যৌথভাবে একই ইংরেজী ভাষার টিভি চ্যানেল চালু করবে। যেটি ইসলামভীতি মাধ্যমে সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলাসহ আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে ভুমিকা রাখবে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক নগরীতে সমবেত হয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

সেখানে অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠক করেছেন এই তিন নেতা। এসময় তারা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরেক টুইটার পোস্টে লিখেছন, ভুল তথ্যে কারণে যেসব লোক মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে সেগুলো শুধরে দিতে হবে। ধর্ম অবমাননার বিষয়টি সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

মুসলিম ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে সিরিজ ও সিনেমা তৈরি করে লোকদের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। মিডিয়ায় মুসলিমদের মিডিয়ায় যথাযথ উপস্থিতি থাকতে হবে।

মিশরের স্বৈরশাসক সিসির উপস্থিতির কারণে এবারও ভোজসভা প্রত্যাখ্যান করলেন এরদোগান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের কথা ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজে মিশরের স্বৈরশাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসির উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে এরদোগান। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পর মধ্যাহ্নভোজে থাকার কথা ছিল এরদোগানের।

মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্পের সাথে মিশরের স্বৈরশাসক সিসি ছাড়াও একই টেবিলে আরো ছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দার্ন, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেসসহ অনান্যরা।

সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্পের টেবিলে সিসিকে দেখে তিনি তাঁর প্রতিনিধি দলকে নিয়ে অন্য টেবিলে মধ্যাহ্নভোজ করেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বৈরশাসক সিসিকে তার ’প্রিয় শাসক’ বলে অভিহিত করেন। শহীদ মুহাম্মাদ মুরসীর মৃত্যুর জন্য স্বৈরশাসক সিসিকে দায়ী করে এরদোগান বলেন, শহীদ মুরসীর উপর ব্যাপক হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল।

তারা তাঁর পরিবারকে তাঁর দেহাবশেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেননি এবং তাঁর ইচ্ছা অনুসারে তাকে তাঁর নিজ শহরে দাফন করতে দেয়নি স্বৈরশাসক সিসি। তার পরিবারের মতে, মুরসীর ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগ ছিল কিন্তু স্বৈরশাসক সিসির কর্তৃপক্ষ তার যথাযথ চিকিৎসা দেয়নি। এর আগে এরদোগান আমেরিকাকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসীর মৃত্যুর বিষয়ে সরকারী তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানান।

এরদোগান সিসিকে একজন অত্যাচারী, গণতান্ত্র বিরোধী শাসক অভিহিত করে বলেন, আমরা যেমন জামাল খাশোগজির মৃত্যুকে ভূলে যেতে দেয়নি তেমনি আমরা শহীদ মুরসীর মৃত্যুকেও ভূলে যেতে দেব না। আমি আশা করি আমেরিকা মুরসীর মৃত্যুর ব্যাপারটি খতিয়ে দেখবে। এরদোগান আরও বলেন, মুরসীর মৃত্যুর ব্যাপারে তুরস্ক প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনের সবকটির প্রয়োগের জন্য লড়াই করবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো মুরসীর মৃত্যুর বিষয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, মুরসী ২০১২ সালে গণতান্ত্রিকভাবে মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু এক বছর পরে সামরিক অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

সে সময় স্বৈরশাসক সিসির নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনকে একটি বড় ধরনের ত্রাসের মুখে ফেলে দেয় এবং এই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ব্রাদারহুডের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্র : ডেইলি সাবাহ