ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

অবশেষে এবার চাকরি পাচ্ছে বেকার যুবকরা – প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৬ ১৯:৪৩:১৬ || আপডেট: ২০১৯-১০-১৯ ১৩:১৫:০৬

টানা তৃতীয়বার দেশ পরিচালনা দায়িত্ব আওয়ামী লীগকে দেওয়াই দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কোন শিক্ষিত তরুণই কর্মসংস্থান ছাড়া থাকবে না।

শনিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই বিজয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন পর স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। আমি মা-বোন, নারীদের, তরুণ প্রজন্মকে, এদেশের কৃষক-শ্রমিক-কামার-কুমার-তাঁতীসহ সর্বোস্তরের মানুষকে ধন্যবাদ জানাই; যারা আমাদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও প্রতিজ্ঞা করেছি এ দেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছি। যে বাংলাদেশে একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, সবাই চিকিৎসা পাবে, তরুণেরা কর্মসংস্থান পাবে। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, এ রায় সন্ত্রাসের, জঙ্গিবাদের, মাদকের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায়। নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা তাদের এটা মনে রাখতে হবে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা আমাদের কর্তব্য। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয় শুধু আওয়ামী লীগের নয়, এই বিজয় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির, আপামর জনগণের। আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে এটা সত্য। যখন দায়িত্ব পেয়েছি, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই দল মত প্রত্যেকের জন্য কাজ করবো। সবার রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করবো। প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলের তরে, সকলের জন্য। সকলের জন্য কাজ করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায় নিয়ে আমরা চতুর্থবারের জন্য সরকার গঠন করেছি। আমরা জাতির কাছে দায়বদ্ধ। যে বিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেই আস্থা ও মর্যাদা আমরা রক্ষা করবো। প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করাই আমাদের অঙ্গিকার। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করেছি দেশকে গড়ে তুলতে। কী পেলাম সেটা বড় কথা নয়, কী দিলাম সেটাই বড় কথা। আসুন সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে গড়ে তুলি, বর্তমানকে উৎসর্গ করি ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার পিতা দেশের মানুষের জীবন উন্নত করার জন্য জীবন দিয়েছেন। আমার মা, ভাই, পুরো পরিবার জীবন দিয়েছেন। এদেশের অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন বাংলাদেশের জন্য। আমি এই দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে তৃনমূল পর্যায়ে মানুষের জীবনকে উন্নত করবো। আমরা দেশকে ক্ষুধামুক্ত করেছি, দারিদ্রমুক্ত করেছি। বাংলাদেশ ২০৪১ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশ হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে অঙ্গীকার করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। ৪র্থ বারের মতো মানুষ আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, খুনিরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর কোনো রক্ত বেঁচে থাকবে না, যাতে করে বাংলাদেশ আবার উঠে দাঁড়াতে না পারে। আমি আর আমার ছোট বোন ছয় বছর বিদেশে ছিলাম। সে সময় দেখেছি বাংলাদেশের সেই চিত্র। ছিন্নবস্ত্র, দেখেছি মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, পেটে ক্ষুধার জ্বালা। তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে স্বপ্ন নিয়ে আদর্শ নিয়ে বাবা স্বাধীন করেছেন, সেটা পূরণ করে যেতে পারেননি, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে নিয়ে যখন উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেন তখনই সেই ১৫ আগস্টের ঘটনা ঘটে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এ বিজয় ধরে রাখতে হবে। বিজয়ী হওয়া সহজ কিন্তু তা ধরে রাখা কঠিন। উন্নয়ন, সুশাসনের মাধ্যমে এ বিজয় ধরে রাখতে হবে।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ৩টার দিকে তিনি সমাবেশস্থলে পৌঁছে মঞ্চে সভাপতির আসন গ্রহণ করেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

এদিন বেলা ১২টার দিকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে দেখা যায় নৌকার প্রতিকৃতি, রঙ-বেরঙের বেলুন-ফেস্টুন। নারী কর্মীদের সাজতে দেখা যায় লাল-সবুজ শাড়িতে। পুরুষদের গায়ে লাল-সবুজ টি-শার্ট এবং মাথায় লাল-সবুজেরই ক্যাপ। দুপুর নাগাদ জাতীয় পতাকার রঙিন পোশাকে বর্ণিল হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৭টি আসনে জয় নিয়ে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

পুলিশের ছত্রছায়ায় দেশ ছেড়ে পালিয়েছে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগের ৩০০ নেতাকর্মী

পুলিশের ছত্রছায়ায় দেশ ছেড়ে পালিয়েছে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগের ৩০০ নেতাকর্মী

রাজনীতির নামে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তির প্রয়োগসহ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় চলছে শুদ্ধি অভিযান। এ অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে দলের ইমেজ ক্ষুণ্নকারী নেতাকর্মীরা আছেন ‘দৌড়ের ওপর’।

ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানীর পদত্যাগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী ‘যুবলীগ নেতা’ গোলাম কিবরিয়া শামীমকে গ্রেফতারের মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের বিতর্কিত, অপকর্মকারীদের শাস্তি দিয়ে দলকে শুদ্ধ করা হবে।

এ অবস্থায় শুদ্ধি অভিযান এড়াতে বিদেশে গিয়ে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অন্তত ৩০০ নেতাকর্মী। এছাড়া এই মুহূর্তে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন সমসংখ্যক নেতাকর্মী। আবার অনেকে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালানো নিয়ে বিতর্কে আসা ক্লাবের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ক্যাসিনো বিতর্কে জড়িত আরেক নেতা ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরছেন না।

এরই মধ্যে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত জি কে শামীম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কলাবাগান ক্রীড়াচক্র সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে শুক্রবার নগরীর কলাবাগান এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতার হতে পারেন এমন আলোচনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সম্রাটও গা ঢাকা দিয়েছেন।

নানা অপকর্মের তথ্য উঠে আসে ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, যুবলীগের প্রভাব খাটিয়ে শাহাবুদ্দিন এখন শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া ও বঙ্গবাজারের পাঁচটি মার্কেট।

গুলিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছে যুবলীগ নেতা এখন এক আতঙ্কের নাম। বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ জায়গায় দোকান স্থাপন করে তিন-চারজনের কাছে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের আলী আহম্মেদের ডান হাত হওয়ায় ওই ক্লাবের ক্যাসিনো কারবারের টাকার ভাগও যেত তার পকেটে। প্রতিদিন শাহাবুদ্দিন ২০ হাজার টাকা পেতেন মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের ক্যাসিনোর বোর্ড থেকে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিয়েও নানা কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ট্রান্সফরমারও বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও নেতাকর্মীদের নানা অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি থানার পদপ্রত্যাশী নেতা বলেন, মহানগরের প্রত্যেকটি থানায় কমিটি দেওয়ার নামে কোটি টাকার উপরে টাকা নিয়েছেন মেহেদী। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কমিটি দেওয়ার কোনো নাম নেই।

এদিকে ছাত্রলীগের অনেক নেতা বিয়ে করে সংসার করছেন। কিন্তু তারপরও স্বপদে বহাল রয়েছেন। দক্ষিণ খান থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন সৌরভ সংগঠনের নেতাদের সবাইকে দাওয়াত দিয়ে বিয়ে করেছেন। তুরাগ থানার সভাপতি শফিকুর রহমানও বিবাহিত।

এছাড়া তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হাসানের নামেও অভিযোগের পাহাড়। সাউদার্ন গার্মেন্ট, আইএফএল গার্মেন্টস, সাইফ টেকসহ স্থানীয় ১৫টি গার্মেন্টস থেকে চাঁদা তোলা, প্রায় তিন হাজার অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা পরিচালনা করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন, ১৩ নং সেক্টরে রাজউকের জায়গায় অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়াসহ মাদক ব্যবসায় ছত্রছায়া দান করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় তিনশ নেতাকর্মী দেশের বাইরে চলে গেছেন। যারা দেশে আছেন তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। নতুন নম্বর দিয়ে গুটি কয়েক পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়েও নেই নেতাকর্মী। অনেক কার্যালয়ের তালাও খোলা হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে সারাবাংলাকে জানান, বিএনপি জামায়াত থেকে এসে যারা এত দিন দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলে তাদের অ্যাকশন নেওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। কারণ এই অল্প সংখ্যক নেতার কারণে পুরো দলের বদনাম। ওদের বিরুদ্ধে কঠিন অ্যাকশন নেওয়া হোক এমন দাবি তাদের।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি তারা সবাই অপরাধে জড়িত নই। সামান্য কয়েকজনের কারণে দলের বদনাম হচ্ছে। অপকর্মকারী নেতারা দলে না থাকলেও দলের সামান্য ক্ষতি হবে না।’

অপর একজন নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। তিনি জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কঠোর হয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দলে এসব অপকর্মকারীদের উৎখাত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ রকম কঠোর সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।’

চলমান অভিযান বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে তা চলবে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিমান বন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যতবড় গডফাদার হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ অভিযান চলতে থাকবে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘দুর্নীতির দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে এ অভিযান শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয় বরং সারাদেশে চলবে। যারা মদ, জুয়ার আসর বসিয়ে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে তারা কেউ ছাড় পাবে না। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। ফৌজদারি অপরাধে কেউ গ্রেফতার হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। এ অবস্থায় নেতাকর্মীরা কে কোথায় আছেন তা বলা মুশকিল।’

সারাবাংলা

ক্যাসিনো চলছে, প্রশাসন জানে না এমন হতে পারে না: অর্থমন্ত্রী

সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।তিনি বলেন, ‘দেশে এমন কিছু হওয়ার সুযোগ নেই, যা প্রশাসন জানে না। এমন কোনো কাজ বাংলাদেশে হতে পারে না। এসবের সঙ্গে কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকতে পারে।’মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে নিরাপদ সড়ক বিষয়ে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলার পরই এ অভিযান, এ ট্রেডিশনটা কেমন- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। আমার বিশ্বাস, আমরা যে এখানে মিটিং করছি, এটাও প্রশাসন জানে। ওটাও (ক্যাসিনো) প্রশাসনের জানা উচিত ছিল। তারা যদি না জেনে থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই এক্সপ্লেইন করবেন।’

তিনি বলেন, প্রশাসন জানে না এমন কোনো কাজ বাংলাদেশে হতে পারে না। এর সঙ্গে কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকতে পারে। থাকতে পারে আমি বলছি। তাদের যে রেসপনসিবিলিটি তা অ্যাবজর্ব করতে পারবে না। সেখান থেকে তারা কেউ বেরিয়ে আসতে পারে না।risingbd.com

৬ মাস পর মন্দিরের চোরাই মালামালসহ পূজারী গ্রেফতার

সন্দেহের তীর মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দিকে৬ মাস পর মন্দিরের চোরাই মালামালসহ পূজারী গ্রেফতার বরিশালের আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের পূর্ব পতিহার গ্রামে সরকার বাড়ি রাঁধা গোবিন্দ মন্দির ভাঙচুর, প্রতীমার স্বর্ণালঙ্কার ও প্রণামীর টাকাসহ অন্যান্য মালামাল চুরির মামলায় ওই মন্দিরের পূজারী আরতী রানী শীলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৯ এপ্রিল রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির ৬ মাস পর মন্দির সংলগ্ন বাড়ির পূজারী আরতীর ঘর থেকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে স্টিলের ৫০টি থালা উদ্ধার করে পুলিশ।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, গত ১৯ এপ্রিল রাতে কে বা কারা রাঁধা গোবিন্দ মন্দির ভাঙচুর, প্রতীমার স্বর্ণালঙ্কার ও প্রণামীর টাকাসহ অন্যান্য মালামাল চুরি করে। এ ঘটনায় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরান শীল পরদিন থানায় একটি চুরির মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে ওই মন্দিরের পূজারী আরতী রানীর ঘরে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ৫০টি স্টিলের থালা উদ্ধার করে। পরে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরতীকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মন্দির কমিটির সভাপতি ও মামলার বাদীর নির্দেশে চুরি করার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশ তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। তাকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। আপাতত আরতীকে আদালতে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ওসি।

রাজতন্ত্র কায়েম করে ১০ বছরে ৩০০০ কোটি টাকার মালিক আওয়ামীলীগের এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব

রাজতন্ত্র কায়েম করে ১০ বছরে ৩০০০ কোটি টাকার মালিক আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব

চরফ্যাশন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ: চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাকে রাজতন্ত্র কায়েম করে ৩০০০কোটি টাকার মালিক আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। ২০০৭সালে জ্যাকব ইস্টার্ন ব্যাংক দিলকুশা শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পারসোনাল লোন চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরি না থাকায় ইস্টার্ন ব্যাংক তাকে লোনটি দেয়নি, দৌড় জাপ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচীত হওয়ার পর থেকে তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি,লোবিং করে উপমন্ত্রীও হয়ে যান।

চরফ্যাশন ও মনপুরা সকল কাজ তার নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে প্রায় ৫০০০কোটি টাকার কাজ করান, এবং তার রাজতন্ত্র কায়েম করার জন্য বিএনপি,জামায়েতের পোস্ট দারী নেতাদের চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখেন। নেতা কর্মীদের কাছ থেকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ায় নামে অফিস খরচ হিসাবে ১৫%থেকে ২০%টাকা নিতেন।

জোর জুলুম করে গরীব মেহনতী মানুষের জায়গা দখল করে নাম মাএ টাকা মূল্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে খামারবাড়ি, বিভিন্ন বেনামে তার রয়েছে ২৫টি ইটের ভাটা। ঢাকায় মিরপুরে গড়ে তুলেছেন আলিশান পাঁচ তারকা মানের বাড়ি। মধুমতি ব্যাংকের ৪০%শেয়ারের মালিক। মালশিয়া,কানাডা,অস্ট্রেলিয়া রয়েছে তার বাড়ি,।

উপমন্ত্রী থাকা অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল থেকে বিভিন্ন উপজেলায় ফান্ড দেওয়ার নামে ২০%করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। চরফ্যাশন জেলা পরিষদের মার্কেট দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চরফ্যাশন পৌরসভা মার্কেট দেওয়ার নামে অগ্রিম কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বউয়ের নামে শালার নামে গড়েছেন বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি। গাজীপুরে গড়েছেন তার বিশাল ইন্ডাস্টী। তার যাতায়াতে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা সে হেলিকপ্টারে খরচ করে।

একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আ.ক.ম.জামাল, তার কাছ থেকে জানতে পারি জ্যাকবের অধিপত্যে বিস্তার করে তার ছোট ভাই সৌরভ প্রায় ১০০০কোটি টাকার মালিক, এবং জ্যাকবের ক্যাডার ইমন মাদক ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় বিশ কোটি টাকার মালিক, বর্তমানে সে হেলিকপ্টারে আসা যাওয়া করে। জ্যাকবের অন্যতম ক্যাডার কুতুব জাহানঙ্গীর চরফ্যাশনে গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদ।

সরকারি টয়লেট বাদে সকল প্রতিষ্ঠান গড়েতুলেছন তার বাবা, মা, বউ এবং নিজ নামে। চরফ্যাসনকে কায়েম করছেন রাজতন্ত্রে। সাধারন দলের ত্যাগী কর্মীরা আজ কোনঠাসা। তাদের বুকে রয়েছে চাপা কান্না। চরফ্যাশন ও মনপুরা বাসী এই জুলুম রাজত্ব থেকে মুক্তি চায়। চরফ্যাশন ও মনপুরার সাধারণ মানুষ আজ জিম্মি। তার ব্যাক্তিগত সহকারী শরীফও প্রায় ১০০কোটি টাকার মালিক। তার ব্যক্তিগত সহকারীকে আইনের আওতায় আনা হলে জ্যাকবের অানেক সম্পদের রহস্য জানা যাবে।banglarpran.com