ঢাকা, আজ শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কাসেমপুর কারাগার থেকে মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে একটি টুপি উপহার পাঠিয়েছেন আল্লামা সাঈদী

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৬ ১৯:১৮:৫৩ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৬ ১৯:১৮:৫৩

মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ফেসবুক পেজে তিনি আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে একটা পোষ্ট দেন পাঠকদের সুবিধার্থে সেই স্ট্যাটাস টি হুবহু তুলে ধরা হলো..আলহামদুলিল্লাহ, ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ।

আজ জীবনের অন্যতম একটি সেরা উপহার পেলাম। আমাদের আল্লামা, আমাদের সকলের প্রিয় মুফাসসির কাশিমপুর থেকে আমার জন্য একটি টুপি উপহার পাঠিয়েছেন:গত 22 জুন, 2019 আল্লামার সাথে দেখা করে এসেছিলাম। সে দিন টি আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন হিসেবে আজীবন চিহ্নিত হয়ে থাকবে। হুজুর আমার বুকের উপর হাত রেখে মন ভরে অনেকক্ষণ দু’আ করেছেন। এটা ছিলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া।

আজ পেলাম হুজুরের মাথার ব্যবহৃত টুপি।
মুহতারাম মাসুদ সাঈদী ভাই আজ মাগরিবের পর হুজুরের পাঠানো টুপিটা আমার হস্তগত করলেন। আরো আনন্দিত হলাম এ জন্য যে, মাসুদ ভাই বললেন- হুজুর আমাকে দু’আতে শামিল রাখছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

22 জুনের সাক্ষাতের পর আমার আইডিতে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। আজ তা আবারো রি পোস্ট করলাম। পড়লে আশা করি ভালো লাগবে।কিছু কিছু সম্পর্ক আছে যা রক্তের সম্পর্কের চেয়েও প্রগাঢ়। আর তা যদি হয় শুধু আল্লাহর জন্য, নিশ্চয়ই এর পুরস্কার আরশের ছায়াতলে অবস্থান:কত দিন তাঁকে দেখিনা। শুনিনা তাঁর মধুমাখা কথাগুলো। যাঁকে দেখলে রবের কথা স্মরণ হয়। যার মুখের কথায় ঈমান হয় দীপ্তময়।

প্রায় দশটি বছর তিনি লোক চক্ষুর অন্তরালে। মন হাহাকার করছিল তাঁর মায়াবি মুখখানা একটিবার দেখার জন্য। কিন্তু ভাবি, দীর্ঘ 15 দিন পর তাঁর আপন জনেরা তাঁকে শুধু সামান্য সময়ের জন্য একান্তে একবারই কাছে পান। আবার আমি যদি তাঁদের এ সময়টুকুতে ভাগ বসাই, এটা তাঁদের কষ্টের কারণ হতে পারে।

তাই মনে পুষে রাখা এ আকাঙ্ক্ষার কথা কাউকে বলিনি। যদিও মেঝ ভাই দু- দুই বার আমার বাসায় পদধূলি দিয়েছেন। তাঁকে খুব কাছে পেয়েও বলি নি।কথা প্রসঙ্গে একদিন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার আব্দুল্লাহ হাজ্জ কাফেলার সত্ত্বাধীকারি মুহতারাম আবুল কালাম আজাদ ভাইকে মনের এ অব্যক্ত বাসনার কথা জানালাম। উনার সাথে মেঝ ভাইয়ের সম্পর্ক অনেকটা পারিবারিক সম্পর্কের মত।

আল্লাহ উনার ওসিলায় আমার মনের আশা পূরণ করলেন। আলহামদুলিল্লাহ।গত কয়দিন আগে কালাম ভাই হঠাৎ কল করে জানালেন আগামী 22 তারিখ সেই শুভ ক্ষণ। প্রহর গুণতে গুণতে হাজির হয়ে গেলো কাঙ্খিত মূহুর্ত।

বেলা 12 টার দিকে গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। ফর্মালেটিজ মেইনটেইন করে প্রিয়তমের কাছে পৌঁছতে প্রায় 2:30 বেজে গেলো।
তিনি ছোট একটি কক্ষে চেয়ারে বসে আছেন। সালাম দিয়ে প্রবেশ করলাম। কি সুন্দর চেহারা, মনে হচ্ছিল চেহারায় নূর চমকাচ্ছে। উনাকে আগেও অনেকবার দেখেছি। মুসাফাহা করার সুযোগও পেয়েছি। কিন্তু আজকের মত তাঁকে এত সুন্দর আর কখনো মনে হয় নি।তিনি উঠে দাঁড়ালেন, বুকে জড়িয়ে ধরলেন। কপালে চুমু খেলেন। অতপর পাশের চেয়ারে হাত চেপে ধরে বসিয়ে দিলেন। হাসি মাখা মুখে কথা বলতে শুরু করলেন। কি সুন্দর হাসি। মনে হচ্ছিল দাঁত থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল।

বললেন: তোমার ওয়াজ আমি শুনেছি। আমিতো অবাক । উনার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে বললেন- জামেয়া কাসেমিয়ার বার্ষিক মাহফিলের ওর ওয়াজটা আমি সম্পূর্ণ শুনেছি। কি সুন্দর আলোচনা। আমার চোখে পানি এসে গেলো। তাফসীর মাহফিল জগতের সম্রাট আমি নাখান্দার ওয়াজের প্রশংসা করছে। তিনি বলছেন- আমি সেদিন ই তোমাকে আমার অন্তরে স্থান দিয়ে দিয়েছি। বললেন- তুমি তো আমার ছেলের মত। তারপর একটি বাটিতে নুডুলস নিলেন, নিয়ে আমাকে বললেন খাও। আমি এক চামচ নুডলস নিয়ে হুজুরের মুখে তুলে দিলাম। তিনিও এক চামচ নিয়ে আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিলেন। আমার পরিবারের খোজ খবর নিলেন। এমন ভাবে কথা বললেন, মনে হয় যেন, আমি যেন তাঁর পরিবারেরই লোক।

আমি বললাম- উস্তাজ আমরা আপনাকে ভুলি নি। আপনি আমাদের অন্তরে শ্রদ্ধার আসন অলংকৃত করে বসে আছেন। বাংলার মানুষের অন্তরে আপনার প্রতি ভালোবাসা আগের চেয়ে লক্ষগুণ বেড় গেছে। আপনার সাক্ষাতের আশায় প্রহর গুনছে লক্ষ-কোটি জনতা। আপনার দেখানো পথে মাঠে-ময়দানে দাওয়াতি কাজ করছে শত শত বক্তা। আপনার জন্য দু’আ না করে আমরা মাহফিল শেষ করি না। মাহফিলে আপনার নাম ইশারা করে কথা বললেই জনতার শ্লোগান আকাশ প্রকম্পিত করে তুলে।

উস্তাজ এবার কাঁদতে শুরু করলেন। বললেন – দু’আ করো- আল্লাহ যেন আমাকে আবার কুরআনের ময়দানে ফিরিয়ে নেন। আমরা সবাই আমীন, আমীন বলতে থাকলাম।বললেন- আমি আল্লাহ কাছে দু’আ করি আমি যেন শহীদ হতে পারি, আমার মৃত্যু যেন রাসূল সা, এর শহরে হয়। আমরা আমীন, আমীন বলতে থাকলাম।

তিনি আরো অনকেগুলো কথা বললেন। শুধু শুনতেই মন চায়। কিন্তু তাঁর পরিবারের লোকেরা পাশে বসে আছেন। বসে আছেন আমাদের আম্মাজানও। তাই আর বেশি সময় নেয়া আমার ঠিক নয় ভেবে আমি বিদায় চাইলাম। তিনি আবারো আমার কপালে চুমু খেলেন। আমিও উস্তাজের প্রশস্ত কপালে চুমু খাওয়ার সুযোগ টুকু হাতছাড়া করলাম না। চুমু একেঁ দিলাম। বললাম- আমার বুকে হাত দিয়ে একটু দু’আ করে দিন। আমি এ দু’আ টুকু নিতে এসেছি। তিনি আমার বুকে হাত দিয়ে অনেক ক্ষণ দু’আ করলেন।

মুসাফাহা করতে হাত বাড়ালে হাত চেপে ধরে বললেন- তোমাকে ছাড়তে মন চাচ্ছে না। আমি ভাবি নি তোমার সাথে এভাবে আমার দেখা হবে। দু’আ করছি আল্লাহ যেন জান্নাতে এভাবে আমাদের একত্রিত করে দেন ।আমি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আমীন, আমীন বলতে বলতে আমার লেখা মিরা’জ, শিরক ও বিদআত তিনটি বই এবং মুফাসসির পরিষদের ডায়েরী ও আত তাফসীর মেগাজিন হুজুরের হাতে তুলে দিয়ে আবারো দু’আ চেয়ে সালাম দিয়ে
বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।

বাহিরে এসে মনে এক পরম প্রশান্তি অনুভব করলাম। হুজুরের জন্য মন ভরে দু’আ করলাম। ভাইজানেরা বেরিয়ে এসে বললেন- বাশার ভাই আজ আপনি আমাদের সর্বনাশ করে ফেললেন!আমি বললাম- কি সর্বনাশ করেছি ভাই।বললেন- আব্বাজানের সব দু’আ আজ আপনি একাই নিয়ে নিলেন।

আমি আজ এত খুশি হয়েছি- জীবনে এত খুশির দিন খুব কমই আমি পেয়েছি।আল্লাহ হুজুরকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন। খুব তাড়াতাড়ি কুরআনের ময়দানে ফিরিয়ে আনুন। আমীন।

কপি, মুহতারাম
ড. Md Abul Kalam Azad