ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মা ভিক্ষা করতাছে ছেলের লাশ দেশে আনার জন্য😭

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৫ ০৮:২৮:৫৭ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৫ ০৮:২৮:৫৭

গত ৪ জুলাই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মাগুরার সন্তান শাহ আলম। এরপর ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও টাকার অভাবে তার লাশ দেশে আসেনি।শাহ আলম মহম্মদপুর উপজেলার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর সায়েন উদ্দিন মোল্যার ছেলে। তার মায়ের নাম হুরিয়া বেগম। তারা শুনেছেন- সৌদির জেদ্দা থেকে ছেলের লাশ দেশে আনতে হলে তাদের গুনতে হবে আড়াই লাখ টাকা।কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবে তা ভেবে কূলকিনারা করতে পারছে না নদীভাঙনে ভিটেমাটিসহ সর্বস্ব হারানো শাহ আলমের পরিবার। উপায় না পেয়ে সন্তানের লাশ আনার টাকা জোগাড় করতে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা শুরু করেছেন মা হুরিয়া বেগম।গত কয়েক দিনে ২১ হাজার টাকার মতো জোগাড় হয়েছে। তবে আর কত দিন ভিক্ষা করলে বাকি টাকা জোগাড় হবে তার হিসাব মিলছে না।এ অবস্থায় মৃত সন্তানের মুখ শেষবারের মতো দেখার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন বলে জানান হুরিয়া বেগম। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে পাঁচ হাজার ৮০০ টাকা সাহায্য পেয়েছেন।সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে ২১ হাজার টাকার মতো জোগাড় হয়েছে।কিন্তু যে হারে সাহায্য পাচ্ছেন তাতে লাশ আনার আড়াই লাখ টাকা জোগাড় করতে অনেক দিন লেগে যাবে বলে হতাশ কণ্ঠে জানান হুরিয়া বেগম।দিনমজুর সায়েন উদ্দিন জানান, দারিদ্র্যতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ছেলে শাহ আলমকে গত বছরের ৯ আগস্ট সৌদি আরবে পাঠান।এ জন্য এনজিও থেকে ঋণ নেয়ার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও শাহ আলমের পরিবার অনেক টাকা ধারদেনা করেছে।

তবে সৌদি পৌঁছে ১০ মাস নির্মাণশ্রমিকের কাজ করলেও তিনি পরিবারের কাছে কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। এরই মধ্যে শাহ আলম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ায় তার লাশ আনার খরচ জোগাড় করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে জানান সায়েন উদ্দিন।তিনি বলেন, উপায় না পেয়ে আমার স্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারঘাটে গিয়ে আর্থিক সাহায্যের জন্য মানুষের কাছে হাত পাতছে।মঙ্গলবার দুপুরে মহম্মদপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাহায্য সংগ্রহকালে শাহ আলমের মা হুরিয়া বেগমের সঙ্গে যুগান্তরের এ প্রতিনিধির কথা হয়।এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, কলিজার টুকরার লাশের মুখখানা শেষ দেখার জন্য সরকারের কাছে ও সমাজের বিক্তবানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।‘আমার মনিরে একটুশেষবারের মতো দেখতে দেন আপনারা’ বলেই কাঁদতে থাকেন হুরিয়া বেগম।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহম্মদপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নিহত শাহ আলমের মা হুরিয়া বেগম আমার কাছে আজ সকালে এসেছিলেন। আমি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারিভাবে যতটুকু সহযোগিতা আছে সেটি করা হবে।‘সৌদিতে নিহত সন্তানের লাশ আনতে ভিক্ষা করছেন মা’ এই শিরোনামে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর ২০১৮ সালের ৪ জুলাই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাগুরার শাহ আলমের লাশ দেশে আনা হয়।সরকারি খরচে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪০৩৪ এর একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তার লাশ।সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।শাহ আলম মহম্মদপুর উপজেলার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর সায়েন উদ্দিন মোল্যার ছেলে।

শাহ আলম ছাড়াও ওই দুর্ঘটনায় নিহত আরও তিনজনের লাশ সরকারি খরচে একই ফ্লাইটে দেশে আনা হয়। তারা হলেন- নড়াইল সদরের মহিসওলা গ্রামের মোহসিন হোসাইনের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম, একই জেলার লোহাগড়া উপজেলার হাহড়ীয়া গ্রামের সৈয়দ আশরাফ আলীর ছেলে সৈয়দ হোসেন আলী ও যশোর সদরের বারান্দিপাড়া গ্রামের মো. হায়দার আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম রুবেল।প্রসঙ্গত, নিহত শাহ আলমের মা হুরিয়া বেগম সন্তানের লাশ আনার টাকা জোগাড় করতে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা শুরু করেন। গত ২৪ জুলাই এমন খবর যুগান্তরে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।ওইদিন শাহ আলমের পরিবারকে তাদের সন্তানের লাশ সরকারি ব্যবস্থায় দেশে আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও গণসংযোগ) জাহিদ আনোয়ার।পরে গত ২৬ জুলাই ও ২ আগস্ট ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড পৃথকভাবে নিহত শাহ আলমের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ১৮২ টাকা ও নিহত মনিরুল, সৈয়দ হোসেন এবং সাইফুলের লাশ দেশে আনার জন্য ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৫৪৬ টাকা অনুমোদন দেয়।উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ জুলাই সৌদি আরবের জেদ্দায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হন। এদের মধ্যে চারজনের লাশ সরকারিভাবে বুধবার দেশে আনা হয়। অপরজনের লাশ তার পরিবারের ইচ্ছায় সৌদিতেই দাফন করা হয়েছে।

পুলিশের ছত্রছায়ায় দেশ ছেড়ে পালিয়েছে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগের ৩০০ নেতাকর্মী

রাজনীতির নামে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তির প্রয়োগসহ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় চলছে শুদ্ধি অভিযান। এ অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে দলের ইমেজ ক্ষুণ্নকারী নেতাকর্মীরা আছেন ‘দৌড়ের ওপর’।

ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানীর পদত্যাগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী ‘যুবলীগ নেতা’ গোলাম কিবরিয়া শামীমকে গ্রেফতারের মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের বিতর্কিত, অপকর্মকারীদের শাস্তি দিয়ে দলকে শুদ্ধ করা হবে।

এ অবস্থায় শুদ্ধি অভিযান এড়াতে বিদেশে গিয়ে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অন্তত ৩০০ নেতাকর্মী। এছাড়া এই মুহূর্তে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন সমসংখ্যক নেতাকর্মী। আবার অনেকে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

রাজধানীর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালানো নিয়ে বিতর্কে আসা ক্লাবের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ক্যাসিনো বিতর্কে জড়িত আরেক নেতা ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরছেন না।

এরই মধ্যে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত জি কে শামীম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কলাবাগান ক্রীড়াচক্র সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে শুক্রবার নগরীর কলাবাগান এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গ্রেফতার হতে পারেন এমন আলোচনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সম্রাটও গা ঢাকা দিয়েছেন।

নানা অপকর্মের তথ্য উঠে আসে ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, যুবলীগের প্রভাব খাটিয়ে শাহাবুদ্দিন এখন শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া ও বঙ্গবাজারের পাঁচটি মার্কেট।

গুলিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছে যুবলীগ নেতা এখন এক আতঙ্কের নাম। বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ জায়গায় দোকান স্থাপন করে তিন-চারজনের কাছে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের আলী আহম্মেদের ডান হাত হওয়ায় ওই ক্লাবের ক্যাসিনো কারবারের টাকার ভাগও যেত তার পকেটে। প্রতিদিন শাহাবুদ্দিন ২০ হাজার টাকা পেতেন মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের ক্যাসিনোর বোর্ড থেকে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিয়েও নানা কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ট্রান্সফরমারও বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও নেতাকর্মীদের নানা অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি থানার পদপ্রত্যাশী নেতা বলেন, মহানগরের প্রত্যেকটি থানায় কমিটি দেওয়ার নামে কোটি টাকার উপরে টাকা নিয়েছেন মেহেদী। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কমিটি দেওয়ার কোনো নাম নেই।

এদিকে ছাত্রলীগের অনেক নেতা বিয়ে করে সংসার করছেন। কিন্তু তারপরও স্বপদে বহাল রয়েছেন। দক্ষিণ খান থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন সৌরভ সংগঠনের নেতাদের সবাইকে দাওয়াত দিয়ে বিয়ে করেছেন। তুরাগ থানার সভাপতি শফিকুর রহমানও বিবাহিত।

এছাড়া তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হাসানের নামেও অভিযোগের পাহাড়। সাউদার্ন গার্মেন্ট, আইএফএল গার্মেন্টস, সাইফ টেকসহ স্থানীয় ১৫টি গার্মেন্টস থেকে চাঁদা তোলা, প্রায় তিন হাজার অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা পরিচালনা করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন, ১৩ নং সেক্টরে রাজউকের জায়গায় অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়াসহ মাদক ব্যবসায় ছত্রছায়া দান করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় তিনশ নেতাকর্মী দেশের বাইরে চলে গেছেন। যারা দেশে আছেন তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। নতুন নম্বর দিয়ে গুটি কয়েক পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়েও নেই নেতাকর্মী। অনেক কার্যালয়ের তালাও খোলা হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে সারাবাংলাকে জানান, বিএনপি জামায়াত থেকে এসে যারা এত দিন দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলে তাদের অ্যাকশন নেওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। কারণ এই অল্প সংখ্যক নেতার কারণে পুরো দলের বদনাম। ওদের বিরুদ্ধে কঠিন অ্যাকশন নেওয়া হোক এমন দাবি তাদের।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি তারা সবাই অপরাধে জড়িত নই। সামান্য কয়েকজনের কারণে দলের বদনাম হচ্ছে। অপকর্মকারী নেতারা দলে না থাকলেও দলের সামান্য ক্ষতি হবে না।’

অপর একজন নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না। তিনি জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কঠোর হয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দলে এসব অপকর্মকারীদের উৎখাত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ রকম কঠোর সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।’

চলমান অভিযান বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে তা চলবে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিমান বন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যতবড় গডফাদার হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ অভিযান চলতে থাকবে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘দুর্নীতির দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে এ অভিযান শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয় বরং সারাদেশে চলবে। যারা মদ, জুয়ার আসর বসিয়ে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে তারা কেউ ছাড় পাবে না। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। ফৌজদারি অপরাধে কেউ গ্রেফতার হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। এ অবস্থায় নেতাকর্মীরা কে কোথায় আছেন তা বলা মুশকিল।’

সারাবাংলা

ক্যাসিনো চলছে, প্রশাসন জানে না এমন হতে পারে না: অর্থমন্ত্রী

সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।তিনি বলেন, ‘দেশে এমন কিছু হওয়ার সুযোগ নেই, যা প্রশাসন জানে না। এমন কোনো কাজ বাংলাদেশে হতে পারে না। এসবের সঙ্গে কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকতে পারে।’মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে নিরাপদ সড়ক বিষয়ে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলার পরই এ অভিযান, এ ট্রেডিশনটা কেমন- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। আমার বিশ্বাস, আমরা যে এখানে মিটিং করছি, এটাও প্রশাসন জানে। ওটাও (ক্যাসিনো) প্রশাসনের জানা উচিত ছিল। তারা যদি না জেনে থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই এক্সপ্লেইন করবেন।’

তিনি বলেন, প্রশাসন জানে না এমন কোনো কাজ বাংলাদেশে হতে পারে না। এর সঙ্গে কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকতে পারে। থাকতে পারে আমি বলছি। তাদের যে রেসপনসিবিলিটি তা অ্যাবজর্ব করতে পারবে না। সেখান থেকে তারা কেউ বেরিয়ে আসতে পারে না।risingbd.com

৬ মাস পর মন্দিরের চোরাই মালামালসহ পূজারী গ্রেফতার

সন্দেহের তীর মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতির দিকে৬ মাস পর মন্দিরের চোরাই মালামালসহ পূজারী গ্রেফতার বরিশালের আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের পূর্ব পতিহার গ্রামে সরকার বাড়ি রাঁধা গোবিন্দ মন্দির ভাঙচুর, প্রতীমার স্বর্ণালঙ্কার ও প্রণামীর টাকাসহ অন্যান্য মালামাল চুরির মামলায় ওই মন্দিরের পূজারী আরতী রানী শীলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৯ এপ্রিল রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির ৬ মাস পর মন্দির সংলগ্ন বাড়ির পূজারী আরতীর ঘর থেকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে স্টিলের ৫০টি থালা উদ্ধার করে পুলিশ।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, গত ১৯ এপ্রিল রাতে কে বা কারা রাঁধা গোবিন্দ মন্দির ভাঙচুর, প্রতীমার স্বর্ণালঙ্কার ও প্রণামীর টাকাসহ অন্যান্য মালামাল চুরি করে। এ ঘটনায় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরান শীল পরদিন থানায় একটি চুরির মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে ওই মন্দিরের পূজারী আরতী রানীর ঘরে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ৫০টি স্টিলের থালা উদ্ধার করে। পরে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরতীকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মন্দির কমিটির সভাপতি ও মামলার বাদীর নির্দেশে চুরি করার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশ তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। তাকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। আপাতত আরতীকে আদালতে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ওসি।

রাজতন্ত্র কায়েম করে ১০ বছরে ৩০০০ কোটি টাকার মালিক আওয়ামীলীগের এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব

রাজতন্ত্র কায়েম করে ১০ বছরে ৩০০০ কোটি টাকার মালিক আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব

চরফ্যাশন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ: চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাকে রাজতন্ত্র কায়েম করে ৩০০০কোটি টাকার মালিক আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। ২০০৭সালে জ্যাকব ইস্টার্ন ব্যাংক দিলকুশা শাখা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পারসোনাল লোন চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরি না থাকায় ইস্টার্ন ব্যাংক তাকে লোনটি দেয়নি, দৌড় জাপ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচীত হওয়ার পর থেকে তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি,লোবিং করে উপমন্ত্রীও হয়ে যান।

চরফ্যাশন ও মনপুরা সকল কাজ তার নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে প্রায় ৫০০০কোটি টাকার কাজ করান, এবং তার রাজতন্ত্র কায়েম করার জন্য বিএনপি,জামায়েতের পোস্ট দারী নেতাদের চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখেন। নেতা কর্মীদের কাছ থেকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ায় নামে অফিস খরচ হিসাবে ১৫%থেকে ২০%টাকা নিতেন।

জোর জুলুম করে গরীব মেহনতী মানুষের জায়গা দখল করে নাম মাএ টাকা মূল্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে খামারবাড়ি, বিভিন্ন বেনামে তার রয়েছে ২৫টি ইটের ভাটা। ঢাকায় মিরপুরে গড়ে তুলেছেন আলিশান পাঁচ তারকা মানের বাড়ি। মধুমতি ব্যাংকের ৪০%শেয়ারের মালিক। মালশিয়া,কানাডা,অস্ট্রেলিয়া রয়েছে তার বাড়ি,।

উপমন্ত্রী থাকা অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল থেকে বিভিন্ন উপজেলায় ফান্ড দেওয়ার নামে ২০%করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। চরফ্যাশন জেলা পরিষদের মার্কেট দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চরফ্যাশন পৌরসভা মার্কেট দেওয়ার নামে অগ্রিম কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বউয়ের নামে শালার নামে গড়েছেন বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি। গাজীপুরে গড়েছেন তার বিশাল ইন্ডাস্টী। তার যাতায়াতে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা সে হেলিকপ্টারে খরচ করে।

একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর আ.ক.ম.জামাল, তার কাছ থেকে জানতে পারি জ্যাকবের অধিপত্যে বিস্তার করে তার ছোট ভাই সৌরভ প্রায় ১০০০কোটি টাকার মালিক, এবং জ্যাকবের ক্যাডার ইমন মাদক ব্যাবসা নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় বিশ কোটি টাকার মালিক, বর্তমানে সে হেলিকপ্টারে আসা যাওয়া করে। জ্যাকবের অন্যতম ক্যাডার কুতুব জাহানঙ্গীর চরফ্যাশনে গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদ।

সরকারি টয়লেট বাদে সকল প্রতিষ্ঠান গড়েতুলেছন তার বাবা, মা, বউ এবং নিজ নামে। চরফ্যাসনকে কায়েম করছেন রাজতন্ত্রে। সাধারন দলের ত্যাগী কর্মীরা আজ কোনঠাসা। তাদের বুকে রয়েছে চাপা কান্না। চরফ্যাশন ও মনপুরা বাসী এই জুলুম রাজত্ব থেকে মুক্তি চায়। চরফ্যাশন ও মনপুরার সাধারণ মানুষ আজ জিম্মি। তার ব্যাক্তিগত সহকারী শরীফও প্রায় ১০০কোটি টাকার মালিক। তার ব্যক্তিগত সহকারীকে আইনের আওতায় আনা হলে জ্যাকবের অানেক সম্পদের রহস্য জানা যাবে।banglarpran.com