ঢাকা, আজ সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

জি কে শামীমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের উৎপল ওএসডি

প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৪ ১৯:২৯:৫১ || আপডেট: ২০১৯-০৯-২৪ ১৯:২৯:৫১

‘টেন্ডার কিং’ হিসেবে পরিচিত জি কে শামীমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’কে ওএসডি করেছে মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোসা. সুরাইয়া বেগম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা গণপূর্ত মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বর্তমান কর্মস্থল) উৎপল কুমার দে’কে গণপূর্ত অধিদফতরে (রিজার্ভ) ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের এ কর্মকর্তাকে পদলিপূর্বক পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত তার নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদ/কর্মস্থলে পদায়ন করা হল। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পূর্ত মন্ত্রণালয়ের বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে আনতেন জি কে শামীম। এর জন্য আমলা, প্রকৌশলীদের বিপুল টাকাসহ দামি উপঢৌকনও দিতেন শামীম। এ বিষয়ে মঙ্গলবারই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, সরকারের প্রায় সব ঠিকাদারি কাজ জি কে শামীম কীভাবে পেয়েছে- তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জি কে শামীমের এসব দরপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্তমন্ত্রণায়লের কেউ যদি জড়িত থাকে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। এক্ষেত্রে কারো দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।

এরমধ্যেই গণপূর্তের এ প্রকৌশলীকে ওএসডি করা হল।

এদিকে র‌্যাব বলছে, জি কে শামীমের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী অনেকের হট কানেকশন ছিল। রাজনৈতিক পদ-পদবিধারী নেতা ছাড়াও ৫-৬ জন মন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট।

তার ৩টি মোবাইল ফোনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। কাজ পেতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পাশাপাশি সচিব থেকে শুরু করে প্রকৌশলীদের কাউকেই প্রাপ্য কমিশন থেকে বঞ্চিত করতেন না তিনি।

র‌্যাব আরও জানায়, জি কে শামীম অভিনব উপায়ে টেন্ডারবাজি করতেন। সম্প্রতি ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু হওয়ায় মূলত জি কে শামীমের মতো ঠিকাদারদের আরও সুবিধা হয়েছে।

কারণ আগে থেকেই দরপত্রে এমন শর্ত যোগ করা হয় যাতে পূর্বনির্ধারিত ঠিকাদার হিসেবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও অধিদফতরের উচ্চপর্যায়ে নীতিনির্ধারকরা নির্ধারিত রেটে কমিশন নিতেন।

দীর্ঘদিন ধরে এমন কমিশন লেনদেনের ফলে জি কে শামীম অনেক কর্মকর্তারই আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ফলে পূর্ত সংক্রান্ত মেগা প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবিপিএল যুক্ত থাকে।

গণপূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাদেরও টাকা দিয়ে কার্য উদ্ধার করেছেন শামীম। প্রকল্প কাজের সময় ও ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়ে নিতেও ঘুষ খাওয়া কর্মকর্তারা তাকে সহায়তা করতেন।

র‌্যাবের হাতে আটকের পর ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম জানান, পূর্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাদের পেছনে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতেন তিনি। তার বদলে শত শত কোটি টাকার কাজ পেতেন।

এদিকে জিকে শামীমের তিনটি মোবাইল ফোন থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্র জানায়, সেই তিন মোবাইলে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, শামীমের সিন্ডিকেটের ২২ জন ঠিকাদারের নাম জেনেছে তদন্তকারীরা। গণপূর্ত অধিদফতরের ২০ কর্মকর্তার সঙ্গে শামীমের হটলাইন ছিল বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া শুক্রবারের অভিযানে শামীমের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত এক অফিসিয়াল খাতায় তার অবৈধ লেনদেনসংক্রান্ত হিসাব পাওয়া গেছে।

ওই খাতায় মেগাপ্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজ পেতে টেন্ডার মূল্যের ১-৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন হিসেবে যাদের নগদ দেয়া হয়েছে, তাদের নাম লেখা রয়েছে।

সেখানে যুবলীগ, ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

তবে তদন্তের স্বার্থে গণমাধ্যমে আপাতত এসব নেতার নাম প্রকাশ করেননি তদন্ত কর্মকর্তারা।

তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডের’ সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন শামীম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে সাত দেহরক্ষীসহ শামীমকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এ থানায় অস্ত্র, মাদক এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আলাদা তিনটি মামলা করে র্যা ব।

তাকে দুটি মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র মামলায় শামীমের সাত দেহরক্ষীরও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তারের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শামীমের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনের গুলশান থানায় করা মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।

শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় ৫ দিন এবং মাদক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর অস্ত্র আইনের মামলায় দেহরক্ষী প্রত্যেকের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাইলেও চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।


নিউইয়র্কে বিমানবন্দর থেকে আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

প্রবাসের কথা ডেস্ক- আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে গতকাল রোববার বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে ওই নেতা উপস্থিত হলে সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার ভাই আবু সাঈদ চৌধুরী ওরফে কুটি চৌধুরীকেও আটক করে নিউইয়র্ক পুলিশ।

এনওয়াইপিডির মুখপাত্র সোফিয়া ম্যাসন গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতারের পর তাদেরকে নিকটস্থ কোর্টে নেয়া হলে আদালতে হাজিরার শর্তে জামিন পান ইমদাদ চৌধুরী।

নিউইয়র্ক পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা ওয়ালি হোসেনকে (৪৪) মারধর করেন ইমদাদ চৌধুরী ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহন হন ওয়ালি হোসেন। সেই ঘটনার জেরে রোববার রাত আড়াইটার দিকে ইমদাদ চৌধুরী ও তার ভাই আবু সাঈদ চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। একই ঘটনায় আরও তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা ওয়ালি হোসেনকে কেন মারধর করেছেন ইমদাদ সেই প্রশ্নে জানা গেছে- আওয়ামী লীগে পদপদবি দেবেন লোভ দেখিয়ে একশ্রেণির নেতারা নগদ অর্থ পকেটে পুরেছেন এমন অভিযোগ এনে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ওয়ালি হোসেন।

ওই স্ট্যাটাস দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ইমদাদ চৌধুরী তার ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেছেন ওয়ালি হোসেন।

ইমদাদের আটকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী এনাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর নিয়ে ব্যস্ত আমরা। এখন এসবে মন দেয়ার সুযোগ নেই। তবে কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে জানা গেছে, আটকের কয়েক ঘণ্টা পর আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদ চৌধুরী ও তার ভাইকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আদালতে হাজিরার শর্তে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধরা পড়া সবাই একসময় যুবদল-বিএনপি করত : এইচ টি ইমাম

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ধরা পড়া সবাই একসময় যুবদল, বিএনপি, জামায়াত অথবা শিবির করত বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সভা পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এইচ টি ইমাম বলেন, ইতোমধ্যে যাদের ধরা হয়েছে তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী। আপনারা জানেন যে, আমাদের দলে দীর্ঘদিন থেকে একটি দাবি উঠছিল এসব অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের ভয়ানক ক্ষতি করছে। তাদের এখন আমরা চিহ্নিত করেছি। চিহ্নিত করে দেখা যাচ্ছে সবাই একসময় হয় যুবদল করত, না হলে বিএনপি করত, না হলে জামায়াত-শিবিরের সদস্য ছিল।

তিনি আরও বলেন, কাজেই এদেরকে খুঁজে খুঁজে যেহেতু আমরা বের করে ফেলেছি, এ জন্য তাদের পক্ষ হয়ে এতদিন যারা কাজ করছিল তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে। তাদের গাত্রদাহটা ওইখানে।

এতদিন যারা মদদ দিয়েছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে, এদের রিমান্ডে দেয়া হয়েছে। রিমান্ডে দেয়ার পর তথ্য পাওয়া যাবে। সে সব তথ্য নিয়ে বিচার করা হবে যে, কার কার কোথায় সম্পৃক্ততা আছে।এইচ টি ইমাম বলেন, আমাদের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেও বলেছেন এবং আমাদের সাধারণ সম্পাদক বার বার বলেছেন যে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। সে যে পর্যায়েরই হোক না কেন। অতএব এই যে আমাদের নীতি এখানে খুব পরিষ্কার। আমরা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা দলকে পরিচ্ছন্ন করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মাঝে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন, উপ-কমিটির সদস্য ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, আনিস আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদা চেয়ে মসজিদের কাজ বন্ধ করায় ছাত্রলীগ নেতাকে শোকজ

চাঁদা চেয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ বন্ধ করার অভিযোগে ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাকিবকে শোকজ করেছে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগ।শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান আকতার ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ রায়হান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শোকজের বিষয়টি জানানো হয়।ওই শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রলীগের ওই নেতা রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেকনো ট্রেডের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে বাধা দেন, যা কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। আর এতে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়।

যদিও চাঁদা চাওয়ার এ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতা কাজী মুশফিকুর রহমান সাকিব।তা সত্ত্বেও এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ও প্রকৃত ঘটনা জানতে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

ভারী অস্ত্রসহ ভাইরাল ছাত্রলীগ কর্মী !

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলামকে ভারী অস্ত্রসহ ফেসবুকে একটি ছবিতে দেখা গেছে। নিজেই সামাজিক মাধ্যমটিতে ছবিটি আপলোড করেন তিনি। ইতোমধ্যে সেটি ভাইরাল হয়েছে।

সাইফুল ইউনিয়নের দক্ষিণ ছড়ারকুলের আরিফুল ইসলাম বাবুর ছেলে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে একটি ভারী অস্ত্র নিয়ে সামনের দিকে তাক করে থাকা অবস্থার একটি ছবি নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন ‘সাবধান ডাইরেক্ট অ্যাকশন হবে’।

এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে ক্যাপশন বদলে দেন তিনি। জানা গেছে, ছবিতে যে অস্ত্রটি তিনি ধরে ছিলেন তা খেলনার। নিছক মজার ছলেই তিনি সেটি হাতে নিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেন। চকরিয়া পুলিশ খেলনা অস্ত্রটি হেফাজতে নিয়েছে।

সাইফুল যেদিন ছবিটি তোলেন সেদিন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশের পর ট্রাক নিয়ে বিজয় মিছিল করে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের সমর্থকরা। বিজয় মিছিলেই অস্ত্র হাতে ছবিটি তোলেন সাইফুল।

এ ব্যাপারে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির এই সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে যোগযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, ফেসবুকে ছবিটি দেখার পর মনে হয়েছিল সাইফুলের হাতে কোনো ভারী অস্ত্র ছিল।

তার সঙ্গে যোগযোগ করা হলে অস্ত্রটিকে খেলনা দাবি করেন তিনি। পরে অস্ত্রটি তিনি থানায় জমা দেন। সেটি এখন থানাতেই হেফাজতে আছে। তিনি আরও জানান, মজা করতেই তিনি ছবিটি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেন। তাকে সাবধান করা হয়েছে।

ইমরান খানের সম্মানে ক্বাবা শরীফের দরজা খুলে দেওয়া হয়!

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদি সফরে যেয়ে ওমরা পালনের ইচ্ছাপোষন করলে তাঁর সম্মানে মুসলমানদের তীর্থস্থান পবিত্র ক্বাবার দরজাকে খুলে দেওয়া হয়। তিনি ক্বাবাগৃহের অভ্যন্তরে নফল নামাজ আদায় করেন। গতকাল (২০ সেপ্টেম্বর) সৌদি সফরকালে ইমরান খানের সম্মানে তাঁকে বিশের এ সম্মান প্রদর্শন করেন সৌদি হুকুমত। ওমরা পালন শেষে তিনি মসজিদে নববীতেও গমন করেন। বিশেষভাবে তিনি কাশ্মীরের মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন। সৌদির এ সফরে ইমরান খান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আযীয ও ক্রাউন্ট প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

আবার, কয়েক মিনিটের দূরত্ব অতিক্রম করে সেখানে চাইলেই হানা দিতে পারবে ভারতের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও। এছাড়া পাকিস্তানের জ্যাকোবাবাদের বিমানঘাঁটিতেও সংস্কারমূলক কাজ চলছে এবং সেখানে সম্প্রতি ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রাখা হয়েছে।আরো সংবাদেনিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি!২০১৩ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিসরে সব ধরনের গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেন সামরিক শাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।দীর্ঘদিন পর রাতের নীরবতা ভেঙে শুক্রবারা হঠাৎ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মিসরীয়রা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘সিসি, তুই ক্ষমতা ছাড়’।

কিন্তু আকস্মিক এ বিক্ষোভে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে।ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মধ্যপ্রাচ্যনীতিবিষয়ক কেন্দ্রের গবেষক খালিদ এলজিনদি বলেন, সামাজিকমাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি দেখে মিসরীয় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে তিনি অস্বস্তিবোধ করছেন।তিনি বলেন, কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে, ছোট্ট আকারে হলেও। এমন একটি সরকারের শাসনামালে এই বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন ভিন্নমতের প্রতি শূন্যসহনীয় নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।এমন একসময় মিসরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

কিন্তু সিসির নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিক আহমেদ মনসুর জানালেন আরেক কথা। তার মতে, স্বৈরশাসক সিসি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাননি যেমনটি তিনি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি মিশর থেকে নিউইয়র্ক গিয়েছেন ঠিকই, তবে তা হল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য।গণমাধ্যমের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আহমদ মনসুর

জানান, সিসি মূলত বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আশ্রয় অনুসন্ধান করতে গিয়েছেন। মিসরীয় জনগণ দীর্ঘদিনের ভয় ও বাধা ভেঙে তার পতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসার বিষয়টি তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।মিসরের সবশেষ পরিস্থিতি কোনদিকে গড়াবে তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি মিসরীয় জনগণের মনে সিসির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ রয়েছে তা যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।